উদ্ভিদ পরিচিতি
গাছ যে অক্সিজেন ছাড়ে, মানুষ এইটা বুঝলো কেমনে? বাতাস তো চোখে দেখা যায় না।উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের কাজ · পৃষ্ঠা ৩–৪
মজার কিছু পরীক্ষা করে। ১৭৭০-এর দশকে জোসেফ প্রিস্টলি একটা জ্বলন্ত মোমবাতি কাচের বয়ামে ঢেকে দিলেন, কিছুক্ষণ পর নিভে গেল। একটা ইঁদুর রাখলে ইঁদুরও অসুস্থ হয়ে পড়ত, যেন বাতাসটা 'নষ্ট' হয়ে গেছে। তারপর তিনি সেই বয়ামে একটা পুদিনা গাছের ডাল রেখে কয়েক দিন অপেক্ষা করলেন। দেখা গেল, এবার মোমবাতি আবার জ্বলছে! মানে গাছ বাতাসটাকে আবার 'ভালো' করে দিয়েছে। পরে ইয়ান ইনজেনহাউস দেখালেন, গাছ শুধু আলোতে এই কাজটা করে। আর আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এই 'ভালো' বাতাসের নাম দিলেন অক্সিজেন। বাতাস দেখা না গেলেও তার কাজ দেখা যায়।
পানি তো উপর থেকে নিচে পড়ে। তাইলে এত উঁচা নারকেল গাছের মাথায় পানি উঠে কেমনে?উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের কাজ · পৃষ্ঠা ৩–৪
গাছ পানিকে নিচ থেকে ঠেলে না, ওপর থেকে টানে! পাতায় ছোট্ট ছোট্ট ছিদ্র থাকে। রোদে সেখান থেকে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। তখন পাতা কাণ্ডের ভেতরের সরু নল থেকে পানি টেনে নেয়। পানির কণাগুলো একে অপরকে খুব শক্ত করে ধরে রাখে, তাই ওপর থেকে একটু টানলে পুরো পানির সুতাটা শিকড় থেকে উঠে আসে, স্ট্র দিয়ে শরবত টানার মতো। নলগুলো চুলের চেয়েও সরু, তাই পানি দেয়াল বেয়েও কিছুটা ওঠে। এই কৌশলে ১০০ মিটার উঁচু গাছের মাথায়ও পানি পৌঁছায়।