প্রশ্নখাতা

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের বই · তৃতীয় থেকে নবম-দশম শ্রেণি

বইয়ে যার উত্তর নাই, এমন প্রশ্নের খাতা

বই পড়তে পড়তে আপনার মাথায়ও কি এমন প্রশ্ন আসে? এখানে সেরকম প্রশ্ন জমা আছে, প্রতিটা বইয়ের কোন পাঠ থেকে এসেছে তা সহ। আগে নিজে একটু ভাবুন, তারপর প্রশ্নে চাপ দিয়ে ছোট উত্তরটা দেখুন।

প্রশ্ন, সবগুলোর উত্তর সহ
১৫৩
বিষয়
১৫
শ্রেণি
৩–১০
শ্রেণি:

বিষয় ধরে দেখুন

বিজ্ঞান

শ্রেণি ৩–১০ · ৫৬টি প্রশ্ন
প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ১

উদ্ভিদ পরিচিতি

  1. গাছ যে অক্সিজেন ছাড়ে, মানুষ এইটা বুঝলো কেমনে? বাতাস তো চোখে দেখা যায় না।উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের কাজ · পৃষ্ঠা ৩–৪

    মজার কিছু পরীক্ষা করে। ১৭৭০-এর দশকে জোসেফ প্রিস্টলি একটা জ্বলন্ত মোমবাতি কাচের বয়ামে ঢেকে দিলেন, কিছুক্ষণ পর নিভে গেল। একটা ইঁদুর রাখলে ইঁদুরও অসুস্থ হয়ে পড়ত, যেন বাতাসটা 'নষ্ট' হয়ে গেছে। তারপর তিনি সেই বয়ামে একটা পুদিনা গাছের ডাল রেখে কয়েক দিন অপেক্ষা করলেন। দেখা গেল, এবার মোমবাতি আবার জ্বলছে! মানে গাছ বাতাসটাকে আবার 'ভালো' করে দিয়েছে। পরে ইয়ান ইনজেনহাউস দেখালেন, গাছ শুধু আলোতে এই কাজটা করে। আর আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এই 'ভালো' বাতাসের নাম দিলেন অক্সিজেন। বাতাস দেখা না গেলেও তার কাজ দেখা যায়।

  2. পানি তো উপর থেকে নিচে পড়ে। তাইলে এত উঁচা নারকেল গাছের মাথায় পানি উঠে কেমনে?উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের কাজ · পৃষ্ঠা ৩–৪

    গাছ পানিকে নিচ থেকে ঠেলে না, ওপর থেকে টানে! পাতায় ছোট্ট ছোট্ট ছিদ্র থাকে। রোদে সেখান থেকে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। তখন পাতা কাণ্ডের ভেতরের সরু নল থেকে পানি টেনে নেয়। পানির কণাগুলো একে অপরকে খুব শক্ত করে ধরে রাখে, তাই ওপর থেকে একটু টানলে পুরো পানির সুতাটা শিকড় থেকে উঠে আসে, স্ট্র দিয়ে শরবত টানার মতো। নলগুলো চুলের চেয়েও সরু, তাই পানি দেয়াল বেয়েও কিছুটা ওঠে। এই কৌশলে ১০০ মিটার উঁচু গাছের মাথায়ও পানি পৌঁছায়।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ২

প্রাণী পরিচিতি

  1. সাপের তো কান দেখা যায় না। তাইলে সাপ শুনে কেমনে?প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ · পৃষ্ঠা ১৪–১৫

    সাপের বাইরের কান নেই, কিন্তু মাথার ভেতরে কানের হাড় আছে। সাপ মূলত মাটির কম্পন টের পায়। কেউ হাঁটলে মাটি কাঁপে, সাপ চোয়ালের হাড় মাটিতে রেখে সেই কম্পন ভেতরের কানে পাঠায়। বাতাসের শব্দও সাপ শুনতে পায়, তবে শুধু নিচু, ভারী শব্দ। তাই সাপুড়ের বাঁশির সুর সাপ আসলে প্রায় শোনে না। সাপ দোলে বাঁশির নড়াচড়া দেখে, আর সাপুড়েকে বিপদ ভেবে তাকে চোখে চোখে রাখে।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৩

সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য

  1. ভিটামিন তো চোখে দেখা যায় না। মানুষ বুঝলো কেমনে খাবারে এমন কিছু আছে, যেটা না খাইলে রাতে দেখা যায় না?পুষ্টি উপাদান · পৃষ্ঠা ২৯–৩০

    অনেক আগে মানুষ ভিটামিনের নাম না জেনেই ওষুধটা জানত। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরীয়রা রাতকানা রোগে কলিজা খেতে বলত। কলিজায় প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। কিন্তু কারণটা কেউ জানত না। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরকে শুধু পরিষ্কার চর্বি, চিনি আর প্রোটিন খাইয়ে দেখলেন, ইঁদুর বাড়ে না, অসুস্থ হয়। একটু দুধ বা মাখন দিলেই আবার ভালো। মানে খাবারে আরও কিছু একটা দরকার, অল্প পরিমাণে। একেকটা আলাদা করে খুঁজে নাম দেওয়া হলো ভিটামিন এ, বি, সি, ডি। ভিটামিন এ দিয়ে চোখে রাতে দেখার রাসায়নিক তৈরি হয়, সেটা পরে বোঝা গেছে।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৪

পদার্থ

  1. বাতাসের যদি ওজন থাকে, তাইলে আমাদের মাথার উপর আকাশভরা বাতাস। এত ওজনে চাপা পড়ি না ক্যান?বায়ু এক ধরনের পদার্থ · পৃষ্ঠা ৪৪–৪৫

    চাপ আসলে পড়ছে, কিন্তু শরীরের ভেতর থেকেও সমান চাপ বাইরের দিকে ঠেলছে! আমাদের শরীরের ভেতরের রক্ত, পানি আর বাতাস বাইরের চাপের সমান জোরে ঠেলে, তাই দুটো কাটাকাটি হয়ে যায়। তা ছাড়া বাতাস চারদিক থেকে চাপ দেয়, ওপর থেকে, নিচ থেকে, পাশ থেকে, একই সমান। জন্ম থেকেই আমরা এই চাপে অভ্যস্ত। কতটা চাপ? আপনার হাতের তালুর ওপর বাতাসের ওজন প্রায় একটা বড় মানুষের সমান! প্লাস্টিকের খালি বোতল থেকে বাতাস চুষে বের করে দেখুন, বাইরের চাপে বোতল চুপসে যাবে।

    আরও পড়ুন:
  2. মেঘ তো পানি, আর পানি তো ভারী। তাইলে মেঘ আকাশে ভাইসা থাকে কেমনে?পরিবেশে পানির বিভিন্ন অবস্থা · পৃষ্ঠা ৪৯–৫১

    মেঘের পানি সত্যিই অনেক ভারী, একটা মাঝারি মেঘে কয়েকশো টন পানি থাকতে পারে! কিন্তু সেই পানি খুব খুব ছোট ফোঁটায় ভাগ হয়ে থাকে, একেকটা চুলের চেয়েও সরু। এত ছোট ফোঁটা খুব ধীরে পড়ে, ধুলার কণার মতো, আর নিচ থেকে ওঠা গরম বাতাস তাদের ঠেলে উপরে ধরে রাখে। তা ছাড়া মেঘের চারপাশের বাতাস মেঘের চেয়েও বেশি ওজনের, তাই মেঘ ভেসে থাকে। ফোঁটাগুলো একে অপরের সাথে মিশে বড় আর ভারী হলে বাতাস আর ধরে রাখতে পারে না, তখনই বৃষ্টি পড়ে।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৬

বস্তুর উপর বলের প্রভাব

  1. চুম্বক না ছুঁইয়াই টানে কেমনে? মাঝখানে কি অদৃশ্য কিছু থাকে?দৈনন্দিন জীবনে বল · পৃষ্ঠা ৭৫–৭৭

    হ্যাঁ, একটা অদৃশ্য কিছু থাকে, বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন চৌম্বক ক্ষেত্র। চুম্বকের চারপাশের জায়গা জুড়ে এটা ছড়িয়ে থাকে, চোখে দেখা না গেলেও এর কাজ দেখা যায়। একটা কাগজের নিচে চুম্বক রেখে ওপরে লোহার গুঁড়া ছিটিয়ে দিন, গুঁড়াগুলো সুন্দর বাঁকা রেখায় সাজবে, এগুলোই ক্ষেত্রের রেখা। চুম্বক টানে কারণ চুম্বক আর লোহার ভেতরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা এই ক্ষেত্রের সাথে সাড়া দেয়। মাঝখানে কিছু না থাকলেও, এমনকি শূন্য মহাকাশেও, চৌম্বক ক্ষেত্র কাজ করে। পৃথিবী নিজেও একটা বিশাল চুম্বক, তাই কম্পাসের কাঁটা উত্তর দিকে ফেরে।

    আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৭

পানি

  1. নদীর পানি মিঠা, আর নদীর পানিই তো সাগরে যায়। তাইলে সাগরের পানি নোনা হইলো ক্যান?পানির ধরন · পৃষ্ঠা ৮৪–৮৬

    নদীর মিঠা পানিতেও খুব সামান্য লবণ থাকে, স্বাদে টের পাওয়া যায় না। পানি পাথর আর মাটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় একটু একটু লবণ গুলে নিয়ে আসে। সাগরে পৌঁছানোর পর সূর্যের তাপে পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে মেঘ হয়, কিন্তু লবণ বাষ্প হয় না, সাগরেই থেকে যায়। মেঘ থেকে আবার মিঠা বৃষ্টি পড়ে, নদী হয়ে আবার একটু লবণ নিয়ে সাগরে যায়। লাখ লাখ বছর ধরে এটা ঘটতে থাকায় সাগরে লবণ জমতে জমতে নোনা হয়ে গেছে। সাগরতলের আগ্নেয়গিরি থেকেও কিছু লবণ আসে।

    আরও পড়ুন:
  2. মাটির নিচের পানি কি নদীর মতো বয়? এত মানুষ নলকূপ চাপে, তাও শেষ হয় না ক্যান?পানির উৎস · পৃষ্ঠা ৮২–৮৪

    মাটির নিচের পানি নদীর মতো খোলা নালা দিয়ে বয় না। এটা বালি আর পাথরের দানার মাঝখানের ফাঁকে ফাঁকে ভিজে থাকে, ভেজা স্পঞ্জের মতো। খুব ধীরে চুইয়ে চুইয়ে সরে, দিনে কয়েক সেন্টিমিটার থেকে কয়েক মিটার। প্রতি বর্ষায় বৃষ্টি আর বন্যার পানি মাটিতে চুইয়ে ঢুকে এই ভান্ডার আবার ভরে দেয়। কিন্তু সাবধান, এটা কখনো কখনো শেষ হয়ও। ঢাকায় এত বেশি পানি তোলা হয় যে মাটির নিচের পানির স্তর প্রতি বছর প্রায় দুই-তিন মিটার করে নিচে নামছে, আর শুকনো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের অনেক অগভীর নলকূপে পানি ওঠে না।

  3. শরীরের অর্ধেকের বেশি পানি! তাইলে দৌড়াইলে পেটের ভিতর ছলাৎ ছলাৎ করে না ক্যান?আমাদের জীবনে পানির গুরুত্ব · পৃষ্ঠা ৮৮–৮৯

    কারণ শরীরের পানি বোতলের পানির মতো এক জায়গায় জমা নেই। এটা আমাদের কোটি কোটি ছোট্ট কোষের ভেতরে ভাগ হয়ে আছে, আর প্রতিটা কোষ পাতলা পর্দা দিয়ে ঘেরা। পানি পেশি, চামড়া, রক্তনালির ভেতরে আটকে থাকে, ভেজা স্পঞ্জ বা জেলির মতো। স্পঞ্জ ঝাঁকালে যেমন পানি ছলাৎ করে না, তেমনই। তবে পেট ভরে পানি খেয়েই দৌড় দিলে কখনো কখনো পেটের ভেতর সত্যিই একটু ছলাৎ ছলাৎ টের পাওয়া যায়, কারণ তখন পাকস্থলীতে খোলা পানি থাকে।

    আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৯

জীবনের জন্য সূর্য

  1. সূর্য দূরে বলে ছোট দেখায়। তাইলে আসলে কত বড়? কে মাপছে?তাপ ও আলোর উৎস হিসেবে সূর্য · পৃষ্ঠা ১১৩–১১৫

    অনেক বড়! সূর্যের ব্যাস পৃথিবীর প্রায় ১০৯ গুণ। সূর্যের ভেতরে প্রায় ১৩ লাখ পৃথিবী ঢুকে যাবে। এটা দেখতে ছোট লাগে কারণ এটা প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে। আগে জানতে হয়েছিল সূর্য কত দূরে। সেটা জানতে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অনেক জায়গা থেকে একই সময়ে শুক্র গ্রহকে সূর্যের সামনে দিয়ে যেতে দেখে মেপেছিলেন, ১৭৬১ আর ১৭৬৯ সালে। দূরত্ব জানলে আকাশে সূর্য কত বড় দেখায় সেটা মেপে আসল আকার বের করা যায়। এখন রাডার আর মহাকাশযান দিয়ে খুব নিখুঁতভাবে মাপা হয়।

  2. চুলার আগুন তো একসময় নিভে যায়। সূর্য কি একদিন নিভে যাবে?তাপ ও আলোর উৎস হিসেবে সূর্য · পৃষ্ঠা ১১৩–১১৫

    হ্যাঁ, একদিন, কিন্তু সেটা প্রায় ৫০০ কোটি বছর পরে, তাই ভয়ের কিছু নেই। সূর্য চুলার আগুনের মতো জ্বলে না। এর ভেতরে হাইড্রোজেন পরমাণু মিলে হিলিয়াম হয়, তাতে প্রচণ্ড শক্তি বের হয়। সূর্য প্রায় ৪৬০ কোটি বছর ধরে জ্বলছে, তার জ্বালানির প্রায় অর্ধেক এখনো বাকি। জ্বালানি কমে এলে সূর্য ফুলে বিশাল লাল তারা হবে, তারপর বাইরের অংশ ছড়িয়ে দিয়ে একটা ছোট, ঘন, সাদা তারা হয়ে থাকবে, যেটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হবে।

  3. সৌর প্যানেল রোদ থেকে কারেন্ট বানায়। তাইলে রাতে বাতি জ্বলে কেমনে?তাপ ও আলোর উৎস হিসেবে সূর্য · পৃষ্ঠা ১১৩–১১৫

    দিনের বেলায় রোদ থেকে বানানো বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমিয়ে রাখা হয়। রাতে সেই ব্যাটারি থেকে বাতি জ্বলে। বাংলাদেশের গ্রামে লাখ লাখ বাড়ির ছাদে এমন সোলার প্যানেল আর ব্যাটারি বসানো আছে, এই ব্যবস্থাকে বলে সোলার হোম সিস্টেম। আবার যাঁরা বিদ্যুতের লাইনে যুক্ত, তাঁদের বাড়িতে রাতে বিদ্যুৎ আসে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে, যেখানে গ্যাস, তেল বা কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ বানানো হয়।

    আরও পড়ুন:
  4. চাঁদের আলোতেও কি ছায়া পড়ে?সূর্যের অবস্থান ও ছায়া · পৃষ্ঠা ১১৭–১২০

    হ্যাঁ, পড়ে! পূর্ণিমার রাতে খোলা মাঠে দাঁড়ালে নিজের ছায়া দেখতে পাবেন। চাঁদের নিজের আলো নেই, এটা সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। আলো যেখান থেকেই আসুক, কোনো জিনিস সেটা আটকালে পেছনে ছায়া পড়বে। চাঁদের আলো সূর্যের আলোর চেয়ে প্রায় ৪ লাখ গুণ কম উজ্জ্বল, তাই ছায়াটা হালকা হয়। আর শহরে রাস্তার বাতি বেশি থাকলে চাঁদের ছায়া চোখে পড়ে না। পরের পূর্ণিমায় একবার পরীক্ষা করে দেখুন। শুক্র গ্রহ খুব উজ্জ্বল থাকলে খুব অন্ধকার জায়গায় তার আলোতেও হালকা ছায়া পড়ে!

    আরও পড়ুন:
  5. সূর্যঘড়ি রাতে কাজ করে না। তাইলে আগের দিনের মানুষ রাতে সময় বুঝতো কেমনে?সূর্যের অবস্থান ও ছায়া · পৃষ্ঠা ১১৭–১২০

    তারা দেখে, আর নানা রকম ঘড়ি বানিয়ে। আকাশের তারাগুলো সারা রাত ধীরে ধীরে পূর্ব থেকে পশ্চিমে সরে, যেন একটা বিশাল ঘড়ির কাঁটা। চেনা তারা কোথায় আছে দেখে মানুষ বুঝত রাত কতটা গেছে, প্রাচীন মিশরীয়রা এভাবে রাতকে ১২ ভাগ করত। আরও ছিল জলঘড়ি: একটা পাত্রের ছোট ফুটো দিয়ে পানি ঝরে, কতটা ঝরল দেখে সময়। আমাদের উপমহাদেশে ছিল 'ঘটিকা যন্ত্র': তলায় ছোট ফুটো করা একটা তামার বাটি পানিতে ভাসিয়ে রাখা হতো, বাটিটা ভরে ডুবতে নির্দিষ্ট সময় লাগত। মোমবাতিতে দাগ কেটে, বালুঘড়ি দিয়েও সময় মাপা হতো। আর গ্রামে মোরগের ডাক তো ছিলই!

প্রাথমিক বিজ্ঞান · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ১১

তথ্য ও যোগাযোগ

  1. কবুতর পথ চিনে কেমনে? চিঠি নিয়া ঠিক বাড়িতে যায় কেমনে?যোগাযোগ/তথ্য আদান-প্রদান · পৃষ্ঠা ১৩৬–১৩৮

    এটা বিজ্ঞানীদের কাছেও পুরোপুরি পরিষ্কার না, তবে অনেকটা জানা গেছে। কবুতর কয়েকটা জিনিস একসাথে ব্যবহার করে। সূর্যের অবস্থান দেখে দিক ঠিক করে। পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র টের পায়, মেঘলা দিনেও তাই পথ হারায় না। বাড়ির কাছে এলে চেনা নদী, রাস্তা আর বিল্ডিং দেখে চেনে। কিছু গবেষণা বলে, বাতাসের গন্ধ আর খুব নিচু শব্দও তাদের পথ দেখায়। আর একটা মজার কথা: কবুতর শুধু নিজের বাড়িতে ফিরতে পারে। তাই চিঠি পাঠাতে মানুষ কবুতর আগে খাঁচায় করে দূরে নিয়ে যেত, তারপর চিঠি বেঁধে ছেড়ে দিত।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ২

উদ্ভিদ ও প্রাণী

  1. ডোডো পাখি তো এখন কেউ দেখে নাই। তাইলে আমরা জানি কেমনে ও দেখতে কেমন ছিল?জীবের উপর পরিবেশের প্রভাব · পৃষ্ঠা ১৯

    ডোডো প্রায় ৩৫০ বছর আগে হারিয়ে গেছে, কিন্তু যারা দেখেছিল তারা কিছু চিহ্ন রেখে গেছে। মরিশাস দ্বীপে যাওয়া নাবিকরা ডোডোর বর্ণনা লিখেছিলেন। কিছু শিল্পী জীবিত ডোডো দেখে ছবি এঁকেছিলেন, এমনকি ১৬০০ শতকে একজন মোগল শিল্পী উস্তাদ মনসুরও একটা ডোডোর ছবি এঁকেছেন! বিজ্ঞানীরা মরিশাসের জলাভূমিতে ডোডোর অনেক হাড় খুঁজে পেয়েছেন, সেগুলো জোড়া দিয়ে কঙ্কাল বানিয়েছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপে আঁকা অনেক ছবি সম্ভবত খাঁচায় বেশি খাইয়ে মোটা করা ডোডোর। হাড় দেখে এখন মনে হয়, বনের আসল ডোডো আরও হালকা-পাতলা ছিল।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ৫

স্বাস্থ্যবিধি

  1. জীবাণু তো চোখে দেখা যায় না। মানুষ প্রথম বুঝলো কেমনে যে জীবাণু থেকে অসুখ হয়?পানিবাহিত রোগ · পৃষ্ঠা ৩৬–৩৮

    অনেক বছর ধরে, অনেক মানুষের কাজে। ১৬৭০-এর দশকে অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক নিজে বানানো অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রথম দেখলেন পানিতে আর দাঁতের ময়লায় খুব ছোট ছোট প্রাণী নড়ছে। কিন্তু এরাই অসুখ করে, তা কেউ ভাবেনি। ১৮৪০-এর দশকে ডাক্তার ইগনাজ জেমেলভাইস দেখলেন, ডাক্তাররা হাত ধুয়ে প্রসূতি রোগী দেখলে মায়েদের মৃত্যু অনেক কমে যায়। ১৮৫৪ সালে লন্ডনে জন স্নো দেখালেন, কলেরা ছড়াচ্ছে একটা নির্দিষ্ট পানির কল থেকে। শেষে ১৮৬০-৮০-এর দশকে লুই পাস্তুর আর রবার্ট কখ পরীক্ষা করে প্রমাণ করলেন, নির্দিষ্ট জীবাণু নির্দিষ্ট অসুখ ঘটায়। কখ যক্ষ্মা আর কলেরার জীবাণু খুঁজে বের করেন।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ৮

মহাবিশ্ব

  1. কৃত্রিম উপগ্রহগুলা উপরে ঝুলে থাকে কেমনে? পড়ে যায় না ক্যান?চাঁদ · পৃষ্ঠা ৫৬–৫৭

    আসলে উপগ্রহ সারাক্ষণ পড়ছে! কিন্তু এত দ্রুত পাশের দিকে ছুটছে যে পড়তে পড়তে পৃথিবীকেই পার হয়ে যায়। একটা ঢিল জোরে ছুড়লে দূরে গিয়ে পড়ে, আরও জোরে ছুড়লে আরও দূরে। এত জোরে ছুড়ে দেওয়া হলো যে ঢিল যতটা নিচে নামে, পৃথিবীর বাঁকা মাটি ততটাই নিচে বেঁকে যায়, ফলে ঢিল কখনো মাটি ছোঁয় না, ঘুরতেই থাকে। কাছাকাছি উপগ্রহের গতি সেকেন্ডে প্রায় ৮ কিলোমিটার, মাত্র দেড় ঘণ্টায় পৃথিবীকে একবার ঘুরে ফেলে। নিউটন ৩০০ বছরেরও বেশি আগে এই 'কামানের গোলা' ভাবনা দিয়ে এটা ব্যাখ্যা করেছিলেন।

  2. সকালের শুকতারা আর সন্ধ্যার সন্ধ্যাতারা একই গ্রহ, মানুষ এইটা বুঝলো কেমনে?সৌরজগৎ · পৃষ্ঠা ৫৮

    শুকতারা আর সন্ধ্যাতারা কখনো একসাথে দেখা যায় না! কয়েক মাস সন্ধ্যায় দেখা যায়, তারপর কিছুদিন দেখা যায় না, তারপর ভোরে আকাশে আসে। আর দুটো একই রকম উজ্জ্বল। প্রাচীন গ্রিকরা প্রথমে এদের দুটো আলাদা নাম দিয়েছিল। কিন্তু ব্যাবিলনের জ্যোতির্বিদরা বছরের পর বছর লিখে রেখেছিলেন কবে কোনটা দেখা যায়, আর সেই রেকর্ড মিলিয়ে বোঝা গেল এরা একই বস্তু। পরে দূরবিন দিয়ে দেখা গেল, এটা আসলে শুক্র গ্রহ, আর চাঁদের মতো এরও কলা আছে, বাড়ে-কমে। শুক্র সূর্যের কাছে ঘোরে বলে কখনো সূর্যের একটু আগে, কখনো একটু পরে দেখা যায়।

  3. আমরা তো ছায়াপথের ভিতরেই, তাইলে পুরা ছায়াপথের ছবি তুললো কেমনে?গ্যালাক্সি ও নক্ষত্রমণ্ডলী · পৃষ্ঠা ৫৯–৬০

    তোলেনি! আপনি যত ছায়াপথের পুরো ছবি দেখেন, সেগুলো হয় আঁকা ছবি, নয়তো অন্য কোনো ছায়াপথের ছবি। আমাদের ছায়াপথের বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, এটা এত বড় যে আলোরও এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে প্রায় এক লাখ বছর লাগে। বিজ্ঞানীরা ভেতর থেকেই লাখ লাখ তারার দূরত্ব আর অবস্থান মেপে একটা মানচিত্র বানিয়েছেন, ইউরোপের 'গাইয়া' উপগ্রহ প্রায় ২০০ কোটি তারা মেপেছে। সেই মাপ আর আমাদের মতো দেখতে দূরের ছায়াপথগুলোর ছবি মিলিয়ে শিল্পীরা আমাদের ছায়াপথ কেমন দেখতে, সেটা আঁকেন। অনেকটা নিজের বাড়ির ভেতরে দাঁড়িয়ে ঘরগুলো মেপে বাড়ির নকশা আঁকার মতো।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ১২

আমাদের জীবনে তথ্য

  1. গুহার দেয়ালের ছবি হাজার হাজার বছরেও মুইছা যায় নাই ক্যান? ওরা রং পাইতো কই?তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন · পৃষ্ঠা ৮৯–৯০

    কারণ গুহাগুলো ছিল বৃষ্টি, রোদ আর বাতাস থেকে আড়ালে, ভেতরের তাপমাত্রাও প্রায় একই থাকে। অনেক গুহার মুখ হাজার বছর মাটি ধসে বন্ধ ছিল, তাই ভেতরটা ছিল একটা প্রাকৃতিক টাইম ক্যাপসুল। রং পেত প্রকৃতি থেকে: লাল আর হলুদ রং আসত লোহা মেশানো মাটি 'গেরিমাটি' থেকে, কালো রং পোড়া কাঠকয়লা থেকে, সাদা চকমাটি থেকে। এগুলো পিষে পানি, চর্বি বা থুতুর সাথে মেশানো হতো। এই খনিজ রং সূর্যের আলোতে সহজে বিবর্ণ হয় না। ফ্রান্সের লাসকো গুহা খুলে দেওয়ার পর পর্যটকদের নিঃশ্বাস আর আলোতে ছবি নষ্ট হতে শুরু করে, তাই ১৯৬৩ সালে আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ১৩

জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ

  1. আগের দিনের মানুষ কত বছর বাঁচতো? এইটা এখন জানে কেমনে?প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রভাব · পৃষ্ঠা ৯৭–৯৮

    এখানে একটা মজার গোলমাল আছে। বইয়ে লেখা 'গড় আয়ু ৩০-৪০ বছর' মানে এই না যে তখন সবাই ৩৫ বছরে মারা যেত! তখন অনেক শিশু জন্মের পর প্রথম কয়েক বছরেই মারা যেত। সেই কম বয়সের মৃত্যুগুলো গড়কে টেনে নিচে নামিয়ে দেয়। যারা শৈশব পার হতে পারত, তাদের অনেকেই ৬০-৭০ বছর বাঁচত। এগুলো জানা যায় কবরের হাড় দেখে, কারণ দাঁত আর হাড় দেখে বয়স আন্দাজ করা যায়। পরের যুগে গির্জা বা সরকারের জন্ম-মৃত্যুর খাতা থেকেও হিসাব পাওয়া যায়।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ৫

শক্তি ও পদার্থ

  1. অণু যদি মাইক্রোস্কোপেও দেখা না যায়, তাইলে বিজ্ঞানীরা জানলো কেমনে যে অণু আছে?পদার্থের গঠন · পৃষ্ঠা ৩৮–৩৯

    প্রথমে প্রমাণ এসেছিল পরোক্ষভাবে। ১৮২৭ সালে রবার্ট ব্রাউন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পানিতে ভাসা ফুলের রেণুর ক্ষুদ্র কণা দেখলেন, সেগুলো নিজে নিজে এলোমেলোভাবে কাঁপছে, কেউ নাড়ায়নি। ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন হিসাব করে দেখালেন, পানির অদৃশ্য অণুগুলো চারদিক থেকে কণাগুলোকে ধাক্কা দিচ্ছে বলেই এমন হয়, আর কতটা কাঁপবে তার অঙ্ক কষে দিলেন। ১৯০৮ সালে জঁ পেরিন সেটা মেপে মিলিয়ে দেখলেন, একদম ঠিক! তার আগে রসায়নবিদরাও দেখেছিলেন, পদার্থ সবসময় নির্দিষ্ট অনুপাতে মেলে, যা অণু-পরমাণু ছাড়া বোঝা যায় না। আর এখন বিশেষ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে একেকটা পরমাণুর ছবিও তোলা যায়।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ৮

মহাবিশ্ব

  1. আলো যদি এত দ্রুত যায়, তাইলে এইটার স্পিড মাপলো কেমনে?মহাবিশ্বের আকার · পৃষ্ঠা ৫২–৫৩

    প্রথম মাপ হয়েছিল মহাকাশ দেখে! ১৬৭৬ সালে ওলে রোমার নামের এক জ্যোতির্বিদ বৃহস্পতির চাঁদ আইও-কে দেখছিলেন। আইও নিয়মিত বৃহস্পতির ছায়ায় ঢোকে। কিন্তু পৃথিবী যখন বৃহস্পতি থেকে দূরে থাকে, তখন সেটা হিসাবের কয়েক মিনিট দেরিতে দেখা যায়। কেন? কারণ আলোকে বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে! সেই দেরি থেকে আলোর গতির প্রথম আন্দাজ পাওয়া গেল। ১৮৪৯ সালে ফিজো পৃথিবীতেই মাপলেন: একটা দ্রুত ঘোরা খাঁজকাটা চাকার ফাঁক দিয়ে আলো পাঠিয়ে ৮ কিলোমিটার দূরের আয়নায় ফেরত আনলেন। এখন জানি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার।

  2. সূর্য পর্যন্ত তো কেউ ফিতা নিয়ে যায় নাই, তাইলে দূরত্ব মাপলো কেমনে?মহাবিশ্বের আকার · পৃষ্ঠা ৫২–৫৩

    ফিতা ছাড়াই, কোণ আর অঙ্ক দিয়ে। এক চোখ বন্ধ করে আঙুলটা সামনে ধরুন, তারপর অন্য চোখ দিয়ে দেখুন, আঙুলটা একটু সরে গেছে মনে হবে। দুই চোখের মাঝের দূরত্ব আর আঙুল কতটা সরল জানলে আঙুল কত দূরে, হিসাব করা যায়। বিজ্ঞানীরা একই কাজ করেছেন, দুই চোখের জায়গায় পৃথিবীর দুই দূরের শহর থেকে শুক্র গ্রহকে দেখে, ১৭৬১ আর ১৭৬৯ সালে যখন শুক্র সূর্যের সামনে দিয়ে গিয়েছিল। এখন রাডার দিয়ে আরও নিখুঁত মাপা যায়: শুক্রে বেতার তরঙ্গ পাঠিয়ে প্রতিধ্বনি ফিরতে কত সময় লাগে মাপা হয়, তা থেকে সূর্যের দূরত্ব হিসাব করা যায়। উত্তর: প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।

  3. ১০ হাজার কোটি তারা কে গুনছে? এত তারা গোনা যায় কেমনে?মহাবিশ্বের আকার · পৃষ্ঠা ৫২–৫৩

    কেউ একটা একটা করে গোনেনি, এটা একটা আন্দাজ। দুইভাবে আন্দাজ করা হয়। প্রথমত, আকাশের ছোট একটা অংশে তারা গুনে পুরো আকাশে গুণ করা, যেমন একটা বস্তার এক মুঠো চাল গুনে পুরো বস্তার চাল আন্দাজ করা যায়। দ্বিতীয়ত, ছায়াপথ কত জোরে ঘুরছে সেটা মেপে তার মোট ওজন বের করা হয়, তারপর একটা সাধারণ তারার গড় ওজন দিয়ে ভাগ করা হয়। এই কারণেই সংখ্যাটা একদম নির্দিষ্ট না, বিজ্ঞানীরা বলেন ১০ হাজার কোটি থেকে ৪০ হাজার কোটির মধ্যে। খালি চোখে রাতে আকাশে আমরা দেখতে পাই মাত্র কয়েক হাজার তারা।

  4. আমি তো রোজ দেখি সূর্য ঘুরতেছে, মানুষ প্রথম বুঝলো কেমনে যে আসলে পৃথিবী ঘুরতেছে?মহাবিশ্বের আকার · পৃষ্ঠা ৫২–৫৩

    অনেক সময় লেগেছিল, কারণ আপনার চোখ যা দেখে সেটাই মনে হয় সত্যি। প্রায় ২৩০০ বছর আগে গ্রিক জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টার্কাস বলেছিলেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে, কিন্তু কেউ মানেনি। ভারতের আর্যভট প্রায় দেড় হাজার বছর আগে লিখেছিলেন, পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘোরে, তাই তারাগুলো ঘোরে মনে হয়, যেমন নৌকা থেকে তীরের গাছগুলো পেছনে সরে যায় মনে হয়। ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস হিসাব করে দেখালেন সূর্যকে মাঝখানে রাখলে গ্রহের চলাফেরা সহজে বোঝা যায়। তারপর গ্যালিলিও দূরবিন দিয়ে দেখলেন শুক্রের কলা আর বৃহস্পতির চাঁদ, যা পুরোনো ধারণার সাথে মেলে না।

  5. লাফ দিলে একই জায়গায় নামি ক্যান? মাটি তো সরে যাওয়ার কথা!পৃথিবীর গতি · পৃষ্ঠা ৫৪

    কারণ আপনিও মাটির সাথে সাথে একই গতিতে ছুটছেন! বাংলাদেশে মাটি পূর্ব দিকে প্রায় ঘণ্টায় ১৫০০ কিলোমিটার বেগে ঘোরে, বিমানের চেয়েও দ্রুত। লাফ দেওয়ার আগে আপনি, বাতাস, ঘরবাড়ি সবই এই গতিতে চলছিলেন। লাফ দিলে সেই গতি আপনার সাথেই থাকে, তাই মাটির সাথে তাল মিলিয়ে একই জায়গায় নামেন। চলন্ত বাস বা ট্রেনের ভেতরে একটা বল সোজা উপরে ছুড়ে দেখুন, সেটা আপনার হাতেই ফেরত আসবে, পেছনে ছিটকে যাবে না। একই কারণ। গ্যালিলিও ঠিক এই উদাহরণ দিয়েছিলেন চলন্ত জাহাজ নিয়ে।

  6. অন্য গ্রহেও কি সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে?দিন এবং রাত · পৃষ্ঠা ৫৫–৫৬

    বেশিরভাগ গ্রহে হ্যাঁ, কারণ বেশিরভাগ গ্রহ পৃথিবীর মতো একই দিকে নিজের অক্ষে ঘোরে। কিন্তু দুটো গ্রহ ব্যতিক্রম। শুক্র উল্টো দিকে ঘোরে, তাই সেখানে সূর্য পশ্চিমে ওঠে আর পূর্বে অস্ত যায়! আর শুক্র এত ধীরে ঘোরে যে একবার সূর্য উঠে আবার উঠতে প্রায় ১১৭ পৃথিবী-দিন লাগে। ইউরেনাস প্রায় কাত হয়ে শুয়ে ঘোরে, তাই সেখানে কোনো কোনো জায়গায় একটানা ৪২ বছর দিন আর ৪২ বছর রাত! আর পূর্ব বলতে আমরা যেটা বুঝি, সেটাও গ্রহের ঘোরার দিক দিয়েই ঠিক হয়।

    আরও পড়ুন:
  7. প্রতি বছর ঈদ ১০ দিন করে আগে চলে আসে ক্যান?চাঁদের দশাসমূহ বা অবস্থার পরিবর্তন · পৃষ্ঠা ৫৯–৬০

    কারণ ঈদ চলে চাঁদের ক্যালেন্ডারে, আর আমাদের স্কুলের ক্যালেন্ডার চলে সূর্যের হিসাবে। চাঁদ প্রায় সাড়ে ২৯ দিনে পৃথিবীকে একবার ঘোরে, ১২ মাসে হয় প্রায় ৩৫৪ দিন। কিন্তু সূর্যের এক বছর প্রায় ৩৬৫ দিন। প্রতি বছর ১১ দিনের মতো পার্থক্য হয়, তাই ঈদ প্রতি বছর প্রায় ১০-১১ দিন আগে আসে। এভাবে প্রায় ৩৩ বছরে ঈদ পুরো বছর ঘুরে আবার একই মাসে ফিরে আসে। তাই আপনার জীবনে শীতের ঈদ, গরমের ঈদ, বর্ষার ঈদ সবই দেখবেন। বাংলা পঞ্জিকা অবশ্য সূর্যের হিসাবে চলে, তাই পহেলা বৈশাখ একই সময়ে আসে।

    আরও পড়ুন:
প্রাথমিক বিজ্ঞান · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ১১

আবহাওয়া ও জলবায়ু

  1. কালকে বৃষ্টি হইবো কি না, আবহাওয়া অফিস আগেই জানে কেমনে?আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যকার সম্পর্ক · পৃষ্ঠা ৭৩–৭৪

    নিশ্চিত জানে না, সম্ভাবনাটা হিসাব করে। সারা পৃথিবীর হাজার হাজার আবহাওয়া স্টেশন, বেলুন, জাহাজ, বিমান আর উপগ্রহ প্রতি ঘণ্টায় বাতাসের তাপমাত্রা, চাপ, আর্দ্রতা আর বাতাসের দিক মেপে পাঠায়। সেই তথ্য সুপারকম্পিউটারে দেওয়া হয়, যেটা পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র দিয়ে হিসাব করে বাতাস আর মেঘ আগামী কয়েক দিনে কোথায় যাবে। তাই 'বৃষ্টির সম্ভাবনা ৭০%' বলা হয়, মানে এমন অবস্থায় ১০ বারের মধ্যে ৭ বার বৃষ্টি হয়। আগামীকালের পূর্বাভাস খুব ভালো মেলে, কিন্তু ১০ দিন পরের পূর্বাভাস প্রায়ই মেলে না, কারণ বাতাসের ছোট পরিবর্তন সময়ের সাথে বড় হয়ে যায়।

প্রাথমিক বিজ্ঞান · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ১২

জলবায়ু পরিবর্তন

  1. ১৮৬০ সালের তাপমাত্রা আমরা জানি কেমনে? তখন কি থার্মোমিটার ছিল?বৈশ্বিক উষ্ণায়ন · পৃষ্ঠা ৮১–৮২

    হ্যাঁ, ছিল! থার্মোমিটার আবিষ্কার হয়েছিল ১৬০০ সালের দিকে, আর ১৮৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর অনেক জায়গায় আবহাওয়া স্টেশন প্রতিদিন তাপমাত্রা লিখে রাখত। জাহাজের নাবিকরাও খাতায় সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা লিখতেন, বালতিতে পানি তুলে থার্মোমিটার ডুবিয়ে। বিজ্ঞানীরা এই লাখ লাখ পুরোনো খাতা জড়ো করে মিলিয়েছেন। এ জন্যই বিশ্বের তাপমাত্রার হিসাব সাধারণত ১৮৫০-১৮৮০ সাল থেকে শুরু হয়, তার আগে যথেষ্ট জায়গার মাপ নেই। বিজ্ঞানীরা সাবধানে ঠিক করেন, পুরোনো যন্ত্র কোথায় কোথায় একটু ভুল দেখাত।

  2. লাখ বছর আগে পৃথিবী কি এখনকার চেয়ে গরম ছিল না ঠান্ডা? এইটা জানে কেমনে?বৈশ্বিক উষ্ণায়ন · পৃষ্ঠা ৮১–৮২

    দুটোই! গত কয়েক লাখ বছরে পৃথিবী বারবার বরফযুগে গেছে আর বেরিয়ে এসেছে, প্রায় প্রতি এক লাখ বছরে একবার। শেষ বরফযুগ প্রায় ২০ হাজার বছর আগে চরমে ছিল, তখন পৃথিবী এখনকার চেয়ে প্রায় ৬ ডিগ্রি ঠান্ডা। মাঝে মাঝে আবার এখনকার চেয়ে একটু গরম সময়ও এসেছে। জানা যায় অ্যান্টার্কটিকার বরফ থেকে: প্রতি বছর নতুন বরফ জমে, তার ভেতরে বাতাসের ছোট বুদবুদ আটকে থাকে। বিজ্ঞানীরা তিন কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত বরফ খুঁড়ে বের করেছেন, প্রায় আট লাখ বছরের পুরোনো। বরফের পানির অণুর ধরন আর বুদবুদের বাতাস দেখে তখনকার তাপমাত্রা হিসাব করা যায়। সমুদ্রতলের পলি আর গাছের বর্ষবলয়ও সাহায্য করে।

বিজ্ঞান · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ১২

পৃথিবীর উৎপত্তি ও গঠন

  1. মহাবিশ্বের বয়স ১৩৭০ কোটি বছর মাপলো কেমনে? কেউ তো তখন ছিল না!মহাবিশ্বের উৎপত্তি · পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪

    কেউ ছিল না, কিন্তু মহাবিশ্ব নিজেই কিছু চিহ্ন রেখে গেছে। প্রথম চিহ্ন: দূরের ছায়াপথগুলো আমাদের থেকে দূরে সরছে, আর যত দূরে, তত দ্রুত। সময় পেছনে টানলে সব একসময় একসাথে ছিল। কত জোরে সরছে মেপে হিসাব করা যায় কত আগে সব একসাথে ছিল। দ্বিতীয় চিহ্ন: পুরো আকাশ জুড়ে বিগ ব্যাংয়ের একটা খুব ক্ষীণ তাপ এখনো আছে, বিশেষ উপগ্রহ সেটা খুব নিখুঁতভাবে মেপেছে। তৃতীয়ত, সবচেয়ে পুরোনো তারাগুলোর বয়স মাপলে সেগুলো এর চেয়ে কম আসে, মিলে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর। আপনার বইয়ের ১৩৭০ কোটি পুরোনো একটা মাপ, পরে আরও নিখুঁত হয়েছে।

  2. মহাবিস্ফোরণের আগে কী ছিল?মহাবিশ্বের উৎপত্তি · পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪

    এর সৎ উত্তর হলো: কেউ জানে না। এটা বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় খোলা প্রশ্নগুলোর একটা। আমাদের বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো বিগ ব্যাংয়ের প্রথম মুহূর্তে গিয়ে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। কেউ কেউ মনে করেন, সময় নিজেই বিগ ব্যাং থেকে শুরু, তাই 'আগে' বলে কিছু নেই, যেমন উত্তর মেরুর আরও উত্তরে কিছু নেই। কেউ কেউ মনে করেন, আগে আরেকটা মহাবিশ্ব ছিল যেটা সংকুচিত হয়ে আবার ফুলে উঠেছে। কেউ মনে করেন, আমাদের মহাবিশ্ব অনেক মহাবিশ্বের একটা। এখনো কোনোটা প্রমাণ করা যায়নি। হয়তো আপনি বড় হয়ে এর উত্তর খুঁজবেন!

  3. মহাকাশে তো অক্সিজেন নাই, তাইলে সূর্যের আগুন জ্বলে কেমনে?সৌরজগৎ ও পৃথিবীর সৃষ্টি · পৃষ্ঠা ১০৪–১০৫

    কারণ সূর্যে আসলে আগুন জ্বলে না! আগুন একটা রাসায়নিক বিক্রিয়া, যেখানে কিছু একটা অক্সিজেনের সাথে মিশে পোড়ে। সূর্যে যা ঘটে, সেটা একদম আলাদা: নিউক্লীয় ফিউশন। সূর্যের কেন্দ্রে প্রচণ্ড চাপ আর প্রায় দেড় কোটি ডিগ্রি তাপে হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসগুলো একে অপরের সাথে এত জোরে ধাক্কা খায় যে জোড়া লেগে হিলিয়াম হয়ে যায়। এই জোড়া লাগার সময় একটু ভর হারিয়ে যায়, আর সেটা বিপুল শক্তি হয়ে বের হয়, আইনস্টাইনের E = mc² সূত্র অনুযায়ী। এর জন্য অক্সিজেন লাগে না। সূর্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০ লাখ টন ভর এভাবে শক্তিতে রূপ দেয়।

    আরও পড়ুন:
  4. কেউ তো ভিতরে যায় নাই, তাইলে ভিতরে লোহা-নিকেল আছে জানলো কেমনে?পৃথিবীর গঠন · পৃষ্ঠা ১০৫–১০৭

    ভূমিকম্পের কম্পন দিয়ে, ডাক্তার যেমন বুকে স্টেথোস্কোপ লাগিয়ে ভেতর শোনেন। বড় ভূমিকম্প হলে কম্পনের তরঙ্গ পৃথিবীর ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে যায়। সারা পৃথিবীর যন্ত্রগুলো মাপে কোন তরঙ্গ কখন পৌঁছাল। কিছু তরঙ্গ তরলের ভেতর দিয়ে যেতে পারে না, আর দেখা গেল সেগুলো পৃথিবীর অন্য পাশে পৌঁছায় না, তাই বোঝা গেল ভেতরে একটা তরল বাইরের কেন্দ্র আছে। ১৯৩৬ সালে ইঙ্গে লেহমান দেখালেন, তার ভেতরে আবার কঠিন একটা কেন্দ্র। লোহা-নিকেলের কথা আসে অন্য প্রমাণ থেকে: পৃথিবীর মোট ওজন পাথরের চেয়ে অনেক বেশি, তাই ভেতরে খুব ভারী কিছু আছে, আর মহাকাশ থেকে পড়া অনেক উল্কাপিণ্ড ঠিক লোহা-নিকেলের তৈরি।

  5. ঝড়ের খবর আগে দেয়, ভূমিকম্পের খবর আগে দিতে পারে না ক্যান?পাত ও ভূমিকম্প · পৃষ্ঠা ১০৭–১০৮

    ঝড় সমুদ্রে কয়েক দিন ধরে তৈরি হয়, উপগ্রহের ছবিতে সেটা দেখা যায়, আর বাতাসের গতি দেখে হিসাব করা যায় কোথায় যাবে। ভূমিকম্প হয় মাটির অনেক নিচে, যেখানে বিশাল পাথরের প্লেট বছরের পর বছর ধরে আস্তে আস্তে চাপ জমায়, তারপর হঠাৎ একদিন পিছলে যায়। এই চাপ বাইরে থেকে দেখা যায় না, আর ঠিক কোন দিন পিছলাবে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সংকেত বিজ্ঞানীরা এখনো পাননি। তাঁরা শুধু বলতে পারেন কোন এলাকায় সামনের কয়েক দশকে বড় ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ জন্য আগে থেকে শক্ত বাড়ি বানানো আর কী করতে হবে তা শেখাই সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি।

    আরও পড়ুন:
বিজ্ঞান · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ১৩

খাদ্য ও পুষ্টি

  1. খাবারে কত ক্যালরি আছে এইটা মাপে কেমনে? খাবার কি আগুনে পুড়াইয়া দেখে?স্নেহ জাতীয় খাদ্য ও ক্যালরি · পৃষ্ঠা ১১৬–১১৭

    হ্যাঁ, সত্যিই পুড়িয়ে দেখা হতো! 'বম্ব ক্যালরিমিটার' নামের একটা যন্ত্রে শুকনো খাবারের নমুনা একটা বন্ধ ধাতব পাত্রে বিশুদ্ধ অক্সিজেনে পুরো পুড়িয়ে ফেলা হয়। পাত্রটা পানিতে ডোবানো থাকে, পোড়ার তাপে পানি কতটা গরম হলো মেপে খাবারে কত শক্তি ছিল হিসাব হয়। এক ক্যালরি মানে এক গ্রাম পানিকে এক ডিগ্রি গরম করার শক্তি। তবে শরীর খাবারের সবটা কাজে লাগাতে পারে না, যেমন আঁশ প্রায় হজমই হয় না। তাই এখন সাধারণত খাবারে কত গ্রাম শর্করা, প্রোটিন আর চর্বি আছে মেপে একটা সূত্র দিয়ে হিসাব করা হয়: প্রতি গ্রাম শর্করা আর প্রোটিনে ৪, চর্বিতে ৯ ক্যালরি।

বিজ্ঞান · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ১৪

পরিবেশের ভারসাম্য এবং আমাদের জীবন

  1. ডাইনোসর তো কেউ দেখে নাই। তাইলে ওরা দেখতে কেমন ছিল, এইটা ছবি আঁকে কেমনে?পরিবেশের ভারসাম্য · পৃষ্ঠা ১২৭–১২৮

    হাড় দেখে, আর জীবিত প্রাণীর সাথে মিলিয়ে। জীবাশ্ম হয়ে টিকে থাকা হাড় থেকে কঙ্কাল জোড়া দেওয়া যায়, তাতে আকার আর গঠন বোঝা যায়। হাড়ের গায়ে পেশি লাগার দাগ দেখে কোথায় কত বড় পেশি ছিল বোঝা যায়, তারপর তার ওপর চামড়া বসিয়ে আঁকা হয়। কিছু জীবাশ্মে চামড়ার ছাপ আর পালকও পাওয়া গেছে, তাই এখন জানি অনেক ডাইনোসরের পালক ছিল! আসলে পাখিরাই ডাইনোসরের বংশধর। রঙের ব্যাপারটা সবচেয়ে কঠিন, তবে কিছু পালকের জীবাশ্মে রং তৈরির ক্ষুদ্র কণা এখনো আছে, সেগুলোর আকার দেখে কিছু ডাইনোসরের রংও আন্দাজ করা গেছে। বাকি অনেকটা শিল্পীর বুদ্ধিমান অনুমান।

বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৪

শ্বসন

  1. শ্বসন যদি দহন হয়, তাইলে শরীরের ভিতরে আগুন জ্বলে না ক্যান?শ্বসন কী? · পৃষ্ঠা ৩২

    কারণ শরীর একসাথে না পুড়িয়ে ধাপে ধাপে, খুব আস্তে আস্তে 'পোড়ায়'। কাঠ পোড়ালে সব শক্তি একসাথে তাপ আর আলো হয়ে বের হয়, তাই শিখা দেখা যায়। কোষের ভেতরে খাবারের শর্করা অক্সিজেনের সাথে একই রকম বিক্রিয়া করে, শেষে তৈরি হয় একই জিনিস: কার্বন ডাই-অক্সাইড আর পানি। কিন্তু এটা ঘটে কয়েক ডজন ছোট ছোট ধাপে, এনজাইম নামের প্রোটিনের সাহায্যে। প্রতিটা ধাপে অল্প একটু শক্তি বের হয়, আর সেটা জমা হয় এটিপি নামের অণুতে, যা পরে পেশি নাড়াতে, মস্তিষ্ক চালাতে ব্যবহার হয়। কিছু শক্তি তাপ হয়, তাই শরীর উষ্ণ থাকে, প্রায় ৩৭ ডিগ্রি।

    আরও পড়ুন:
বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

পদার্থের গঠন

  1. পরমাণুর ভিতরে যে প্রোটন-নিউট্রন আছে, কেউ তো ঢুইকা দেখে নাই। তাইলে জানলো কেমনে?পরমাণুর কণা · পৃষ্ঠা ৬২

    অনেকটা অন্ধকার ঘরে বল ছুড়ে মেরে ভেতরের জিনিস আন্দাজ করার মতো। রাদারফোর্ড সোনার পাতে আলফা কণা ছুড়ে দেখলেন কিছু কণা উল্টো দিকে ফিরে আসে, তাতে বোঝা গেল মাঝখানে একটা ছোট্ট ভারী নিউক্লিয়াস আছে। ১৯১৭ সালে তিনি নাইট্রোজেনে আলফা কণা মেরে দেখলেন, ভেতর থেকে হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস ছিটকে বের হয়, নাম দিলেন প্রোটন। কিন্তু হিসাব মিলছিল না: নিউক্লিয়াস যতটা ভারী, প্রোটন দিয়ে ততটা হয় না। ১৯৩২ সালে জেমস চ্যাডউইক দেখালেন, সেখানে চার্জছাড়া আরেকটা কণাও আছে, নিউট্রন। এখন আরও শক্তিশালী কণা ত্বরক দিয়ে দেখা গেছে প্রোটন-নিউট্রনের ভেতরেও আরও ছোট কণা, কোয়ার্ক।

বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৭

শক্তির ব্যবহার

  1. শক্তি যদি তৈরি না হয়, শেষও না হয়, তাইলে মহাবিশ্বের শুরুতে এই সব শক্তি আসলো কোথা থেকে?শক্তির সংরক্ষণশীলতা · পৃষ্ঠা ৭২

    দারুণ প্রশ্ন, বিজ্ঞানীরাও এটা নিয়ে ভাবেন! প্রথম কথা, শক্তির সংরক্ষণ সূত্রটা আমাদের চারপাশের সাধারণ জিনিসে খুব নিখুঁতভাবে খাটে। কিন্তু পুরো মহাবিশ্ব যখন প্রসারিত হচ্ছে, তখন 'মোট শক্তি' কী, সেটা ঠিকঠাক সংজ্ঞায়িত করাই কঠিন হয়ে যায়, আইনস্টাইনের তত্ত্বে এটা একটা জটিল প্রশ্ন। কিছু বিজ্ঞানী হিসাব করে দেখিয়েছেন, পদার্থের শক্তি ধনাত্মক আর মহাকর্ষের শক্তি ঋণাত্মক ধরলে মহাবিশ্বের মোট শক্তি হয়তো শূন্য, তাই কিছু 'আসতে' হয়নি। তবে এটা প্রমাণিত না। সত্যি বলতে, শুরুতে শক্তি কোথা থেকে এলো, এর চূড়ান্ত উত্তর এখনো কেউ জানে না।

বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৮

শব্দের কথা

  1. হাতি নাকি এমন নিচু শব্দে কথা কয় যা আমরা শুনি না। মানুষ এইটা ধরলো কেমনে?শ্রাব্যতার সীমা ও অশ্রুতিকর শব্দ · পৃষ্ঠা ৮৫–৮৬

    ১৯৮৪ সালে আমেরিকার একটা চিড়িয়াখানায় ক্যাথারিন পেইন নামের একজন গবেষক হাতিদের পাশে দাঁড়িয়ে খেয়াল করলেন, বাতাসে একটা কাঁপুনি লাগছে, কিন্তু কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। অনেকটা গির্জার বড় অর্গানের সবচেয়ে নিচু সুরের মতো, যা কানে না, বুকে টের পাওয়া যায়। তিনি বিশেষ মাইক্রোফোন দিয়ে রেকর্ড করে পরে টেপটা দ্রুত চালালেন, তাতে শব্দের সুর উঁচু হয়ে শোনার মতো হয়ে গেল, আর হাতিদের লুকানো 'কথাবার্তা' শোনা গেল! এই নিচু শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যায়, এমনকি মাটির ভেতর দিয়েও। হাতি পায়ের তলা দিয়ে মাটির কম্পন টের পায়।

বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৯

তাপ ও তাপমাত্রা

  1. থার্মোমিটার আবিষ্কারের আগে মানুষ জ্বর মাপতো কেমনে?তাপমাত্রার পরিমাপ · পৃষ্ঠা ৯২–৯৪

    হাত দিয়ে ছুঁয়ে! হাজার হাজার বছর ধরে চিকিৎসকরা রোগীর কপালে বা বুকে হাত রেখে বুঝতেন জ্বর কতটা। নাড়ি কত দ্রুত চলছে গুনে দেখতেন, জ্বরে নাড়ি দ্রুত চলে। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস থেকে আমাদের আয়ুর্বেদিক কবিরাজ সবাই এভাবে দেখতেন। ১৬০০ সালের দিকে প্রথম থার্মোমিটার বানানো হলো, কিন্তু সেগুলো ছিল বিশাল, প্রায় এক ফুট লম্বা, আর তাপ মাপতে ২০ মিনিট লাগত! ১৮৬৭ সালে টমাস অলবাট ছোট, পাঁচ মিনিটে মাপা যায় এমন থার্মোমিটার বানালেন। তারপর থেকে ডাক্তারের ব্যাগে থার্মোমিটার জায়গা পেল। আজও মা-বাবারা আগে কপালে হাত দিয়েই দেখেন!

বিজ্ঞান · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ১২

সৌরজগৎ ও আমাদের পৃথিবী

  1. টলেমির ভুল কথা হাজার বছর মানুষ বিশ্বাস করলো! এত বছর কেউ ধরতে পারলো না ক্যান?সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘোরে · পৃষ্ঠা ১২৪

    কারণ টলেমির মডেল খুব ভালো কাজ করত! তিনি পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে গ্রহগুলোর চলার একটা জটিল হিসাব দিয়েছিলেন, যা দিয়ে আকাশে গ্রহ কোথায় থাকবে, বেশ ভালোভাবে আগাম বলা যেত। নাবিক আর পঞ্জিকা-লেখকদের এটুকুই দরকার ছিল। তা ছাড়া চোখের দেখার সাথে এটা মেলে: সূর্য ঘোরে, মাটি স্থির। পৃথিবী ঘুরলে আমরা টের পাই না কেন, বা তারাগুলো কেন সরে না, এসব প্রশ্নের উত্তর তখনকার জ্ঞানে দেওয়া যেত না। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেমন আরব ও পারস্যের জ্যোতির্বিদরা টলেমির ভুল ধরেছিলেন। শেষে দূরবিন আর আরও নিখুঁত মাপ আসার পরই নতুন মডেল প্রমাণ করা গেল।

  2. সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১২ লক্ষ গুণ বড়। কেউ তো ওইখানে যায় নাই, মাপলো কেমনে?সৌরজগতের গঠন ও পরিচয় · পৃষ্ঠা ১২৪–১২৭

    এই 'গুণ বড়' কথাটা আয়তনের হিসাব (আধুনিক মাপে প্রায় ১৩ লাখ গুণ), আর ব্যাসে সূর্য পৃথিবীর প্রায় ১০৯ গুণ। মাপার কৌশল দুই ধাপে। প্রথমে সূর্য কত দূরে তা বের করতে হয়, সেটা মাপা হয়েছিল শুক্র গ্রহ সূর্যের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথিবীর নানা জায়গা থেকে দেখে, এখন রাডার দিয়ে। দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। তারপর আকাশে সূর্যের চাকতিটা কত বড় কোণ জুড়ে আছে মাপা হয়, প্রায় আধা ডিগ্রি। দূরত্ব আর কোণ জানলে জ্যামিতি দিয়ে আসল ব্যাস বের করা যায়: প্রায় ১৪ লাখ কিলোমিটার। ব্যাস থেকে আয়তন হিসাব করলে আসে ১৩ লাখ গুণ।

  3. মঙ্গলে না গিয়াই বিজ্ঞানীরা মাটির নিচে পানির কথা বুঝলো কেমনে?সৌরজগতের গঠন ও পরিচয় · পৃষ্ঠা ১২৪–১২৭

    মঙ্গলের চারপাশে ঘোরা মহাকাশযান থেকে। ইউরোপের 'মার্স এক্সপ্রেস' আর আমেরিকার 'মার্স রিকনেসান্স অরবিটার' রাডার তরঙ্গ পাঠায় মঙ্গলের মাটির দিকে। তরঙ্গ মাটি ভেদ করে নিচে যায় আর বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। বরফ, পাথর আর পানি তরঙ্গকে আলাদাভাবে ফেরত দেয়, তাই প্রতিধ্বনি দেখে বোঝা যায় নিচে কী আছে। মঙ্গলের মেরুতে মাটির নিচে প্রচুর বরফ নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে। দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে তরল পানির হ্রদের খবরও এসেছিল, তবে অনেক বিজ্ঞানী সেটা নিয়ে সন্দেহ করেন। মাটিতে নামা রোবটরাও খুঁড়ে বরফ পেয়েছে।

বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ১

প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস

  1. সব প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিনে ক্যান? ল্যাটিন তো এখন কেউ কথা কয় না।প্রাণিজগতের শ্রেণিবিন্যাস · পৃষ্ঠা ১–২

    কারণ ঠিক এটাই ল্যাটিনের সুবিধা! যখন ১৭৫০-এর দশকে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াস দুই অংশের বৈজ্ঞানিক নামের নিয়ম চালু করেন, তখন ইউরোপের সব শিক্ষিত মানুষ, তা যে দেশেরই হোক, ল্যাটিনে বই লিখতেন। তাই সবার জন্য একটা সাধারণ ভাষা দরকার ছিল। আর যেহেতু এখন ল্যাটিন কারো মাতৃভাষা না, তাই এটা আর বদলায় না, আর কোনো দেশেরই পক্ষপাত নেই। একটা প্রাণীর বাংলায় এক নাম, অঞ্চলভেদে আরেক নাম, ইংরেজিতে আরেক। কিন্তু Panthera tigris বললে পৃথিবীর যেকোনো দেশের বিজ্ঞানী বুঝবেন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রজাতি। আর মজা হলো, নামগুলো আসলে ল্যাটিনের নিয়মে লেখা, শব্দ যেকোনো ভাষা থেকে নেওয়া যায়।

বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ২

জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি

  1. এত ছোট কোষের ভিতরের ক্রোমোজোম গুইনা ৪৬টা বের করলো কেমনে?বংশগতি নির্ধারণে ক্রোমোজোম, DNA ও RNA · পৃষ্ঠা ২০–২১

    মজার একটা গল্প আছে। অনেক বছর বিজ্ঞানীরা ভাবতেন মানুষের ক্রোমোজোম ৪৮টা, কারণ কোষের ভেতর ক্রোমোজোমগুলো জট পাকিয়ে থাকত, গোনা কঠিন ছিল। ১৯৫৬ সালে জো হিন জিও আর অ্যালবার্ট লেভান একটা নতুন কৌশল কাজে লাগালেন। কোষ ভাগ হওয়ার ঠিক যে মুহূর্তে ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে মোটা আর স্পষ্ট হয়, সেই সময় একটা রাসায়নিক দিয়ে কোষ বিভাজন থামিয়ে দিলেন। তারপর কোষকে লবণের কম ঘনত্বের পানিতে রেখে ফুলিয়ে নিলেন, ক্রোমোজোমগুলো ছড়িয়ে গেল। কাচের স্লাইডে চেপে রং করে অণুবীক্ষণে গুনে দেখলেন: ৪৬টা! এখন কম্পিউটারও ছবি থেকে গুনতে পারে।

বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৫

সমন্বয় ও নিঃসরণ

  1. আমার সব স্মৃতি যদি মগজে থাকে, তাইলে একটা স্মৃতি দেখতে কেমন? মগজ কাটলে কি স্মৃতি পাওয়া যায়?স্নায়ুতন্ত্র · পৃষ্ঠা ৪৭–৪৯

    না, মগজ কাটলে ছবির মতো কোনো স্মৃতি পাওয়া যাবে না। একটা স্মৃতি কোনো একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ছবির মতো জমা থাকে না। মগজে প্রায় ৮৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ আছে, প্রতিটা আরও হাজার হাজার কোষের সাথে জোড়া। কিছু শিখলে বা মনে রাখলে কিছু নির্দিষ্ট কোষের মধ্যের জোড়াগুলো শক্ত হয়। স্মৃতি মানে আসলে কোষগুলোর একটা বিশেষ নকশা, যা একসাথে জ্বলে ওঠে। মনে করার সময় মগজ সেই নকশাটা আবার জাগায়। মজার ব্যাপার, প্রতিবার মনে করলে স্মৃতিটা একটু আবার নতুন করে লেখা হয়, তাই পুরোনো স্মৃতি একটু একটু বদলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মগজে নির্দিষ্ট স্মৃতির কোষ খুঁজে বের করে আলো দিয়ে জাগাতেও পেরেছেন।

বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

পরমাণুর গঠন

  1. পরমাণুর ভিতরে যদি প্রায় সবটাই ফাঁকা, তাইলে টেবিলে হাত রাখলে হাত ঢুইকা যায় না ক্যান?পরমাণুর ধারণার বিকাশ ও গঠন · পৃষ্ঠা ৫৬

    হাত টেবিলের ভেতরে ঢোকে না কারণ পরমাণুর বাইরের দিকের ইলেকট্রনগুলো একে অপরকে প্রচণ্ড জোরে ঠেলে। আপনার হাতের ইলেকট্রন আর টেবিলের ইলেকট্রন দুটোরই ঋণাত্মক চার্জ, আর একই রকম চার্জ একে অপরকে দূরে সরায়। তার ওপর কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের একটা নিয়ম (পাউলির বর্জন নীতি) বলে দুটো ইলেকট্রন একই জায়গায় একই অবস্থায় থাকতে পারে না। তাই 'ফাঁকা' জায়গাগুলো আসলে বলে ভরা। মজার কথা হলো, আপনি কখনো সত্যিই কোনো কিছু 'ছোঁন' না। যা টের পান, তা এই ঠেলাটা, খুব খুব কাছ থেকে।

বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৭

পৃথিবী ও মহাকর্ষ

  1. পৃথিবীর ওজন কত? এত বড় জিনিস মাপলো কোন দাঁড়িপাল্লায়?মহাকর্ষ · পৃষ্ঠা ৬৬–৬৭

    পৃথিবীর ভর প্রায় ৬০০ কোটি কোটি কোটি কিলোগ্রাম (৬ এর পরে ২৪টা শূন্য)! কোনো দাঁড়িপাল্লায় না, মাপা হয়েছিল একটা ঘরের ভেতরে। ১৭৯৮ সালে হেনরি ক্যাভেন্ডিশ একটা তারের সাথে দুটো ছোট সীসার বল ঝুলিয়ে, পাশে দুটো বড় সীসার বল রাখলেন। বড় বলগুলো ছোটগুলোকে খুব সামান্য টানে, তাতে তারটা একটু মোচড়ায়। সেই মোচড় মেপে তিনি বের করলেন দুটো বস্তু একে অপরকে কতটা টানে। তারপর তুলনা করলেন: পৃথিবী একটা বলকে যত জোরে টানে (মানে ওজন), সেটা থেকে পৃথিবী কত ভারী হিসাব করা গেল। তাই একে বলা হয় 'পৃথিবীকে ওজন করার পরীক্ষা'।

    আরও পড়ুন:
বিজ্ঞান · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ১২

মহাকাশ ও উপগ্রহ

  1. মরা স্যাটেলাইটগুলা কি কোনোদিন আমাদের মাথার উপর পড়বে?কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস · পৃষ্ঠা ১২৩

    বেশিরভাগ মরা স্যাটেলাইট নিচে নামতে নামতে বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় বাতাসের ঘষায় প্রচণ্ড গরম হয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বড়গুলোর কিছু শক্ত টুকরা মাটিতে পৌঁছাতে পারে, প্রায় প্রতি সপ্তাহে এমন কিছু না কিছু নামে। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় ৭০ ভাগ সমুদ্র, আর বাকিরও অনেকটা জনশূন্য, তাই সাধারণত কেউ টেরও পায় না। এখন পর্যন্ত মহাকাশের আবর্জনায় কেউ গুরুতর আহত হয়েছেন, এমন নিশ্চিত ঘটনা প্রায় নেই। ১৯৯৭ সালে আমেরিকার লটি উইলিয়ামস নামে এক মহিলার কাঁধে একটা রকেটের ছোট হালকা টুকরা লেগেছিল, তিনি ব্যথা পাননি। বড় স্যাটেলাইটগুলোকে এখন ইচ্ছা করে সমুদ্রের নির্জন জায়গায় নামানো হয়।

বিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ২

জীবনের জন্য পানি

  1. ইলিশ সমুদ্র থেকা এত দূর নদীতে আইসা ডিম পাড়ে। ওরা নদীর রাস্তা চিনে কেমনে?পানির মানদণ্ড · পৃষ্ঠা ৩৮–৪০

    এটা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে, পুরোপুরি জানা যায়নি। স্যামন মাছ নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে, তারাও নদীতে ফেরে, আর দেখা গেছে প্রধান কৌশল হলো গন্ধ। প্রতিটা নদীর পানির একটা নিজস্ব রাসায়নিক 'গন্ধ' থাকে, মাটি, গাছপালা আর পাথর থেকে আসা। ছোটবেলায় মাছ সেই গন্ধ মনে রাখে, পরে সেই গন্ধ ধরে উজানে ফেরে। সমুদ্রের বিশাল পথে সম্ভবত পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রও তাদের পথ দেখায়। ইলিশও সম্ভবত পানির গন্ধ, লবণাক্ততা, স্রোত আর পানির তাপমাত্রা দেখে পথ খোঁজে। আর ইলিশ সবসময় জন্মের নদীতেই ফেরে কি না, স্যামনের মতো, তা এখনো নিশ্চিত না।

পদার্থবিজ্ঞান

শ্রেণি ৯-১০ · ৩টি প্রশ্ন
পদার্থবিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১

ভৌত রাশি এবং তাদের পরিমাপ

  1. দেখা যায় না, ধরা যায় না, তাইলে ডার্ক ম্যাটার যে আছে বুঝলো কেমনে?পদার্থবিজ্ঞানের ক্রমবিকাশ · পৃষ্ঠা ৫–১১

    এর টানের প্রভাব দেখে, যেমন বাতাস দেখা না গেলেও গাছের দোলা দেখে বাতাস টের পান। ছায়াপথগুলো ঘোরে। যত তারা আর গ্যাস দেখা যায়, তাদের মোট ভর দিয়ে হিসাব করলে বাইরের দিকের তারাগুলো এত দ্রুত ঘোরে যে ছিটকে বের হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যায় না। মানে আরও অনেক ভর আছে যা আলো দেয় না। ১৯৭০-এর দশকে ভেরা রুবিন এই মাপগুলো করে বিষয়টা সবার সামনে আনেন। আরও প্রমাণ: বিশাল ছায়াপথপুঞ্জ পেছনের আলোকে লেন্সের মতো বাঁকায়, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। ডার্ক ম্যাটার আসলে কী দিয়ে তৈরি, কেউ জানে না, এটা বিজ্ঞানের বড় রহস্যগুলোর একটা।

পদার্থবিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৭

তরঙ্গ ও শব্দ

  1. বাদুড় শব্দ দিয়া অন্ধকারে দেখে। মানুষও কি জিভ দিয়া টকটক শব্দ কইরা এমনে দেখা শিখতে পারে?প্রতিধ্বনি ও শব্দের ব্যবহার · পৃষ্ঠা ২০১–২০৪

    হ্যাঁ, পারে, আর কিছু মানুষ সত্যিই পারেন! একে বলে মানুষের প্রতিধ্বনি-অবস্থান নির্ণয়। অনেক দৃষ্টিহীন মানুষ জিভ দিয়ে টকটক শব্দ করে, ফিরে আসা প্রতিধ্বনি শুনে বুঝতে পারেন সামনে দেয়াল, গাড়ি বা গাছ আছে কি না, কত দূরে, এমনকি কোনো জিনিস শক্ত না নরম। আমেরিকার ড্যানিয়েল কিশ ছোটবেলায় দৃষ্টি হারিয়েছিলেন, তিনি এভাবে সাইকেলও চালান আর অন্যদের শেখান। মস্তিষ্কের ছবি তুলে দেখা গেছে, তাঁদের মাথায় প্রতিধ্বনি প্রক্রিয়া করে সেই অংশ, যেটা সাধারণত চোখের দেখা প্রক্রিয়া করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন মানুষও কয়েক সপ্তাহের অনুশীলনে কিছুটা শিখতে পারেন।

পদার্থবিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১৩

তেজস্ক্রিয়তা ও ইলেকট্রনিকস

  1. তেজস্ক্রিয় রশ্মি তো চোখে দেখা যায় না, তাইলে বেকেরেল প্রথমবার এইটা টের পাইলো কেমনে?তেজস্ক্রিয়তা · পৃষ্ঠা ৩৪৮–৩৪৯

    ফটোগ্রাফিক প্লেটে দাগ দেখে, আর খানিকটা ভাগ্যের জোরে! ১৮৯৬ সালে হেনরি বেকেরেল ভাবছিলেন, ইউরেনিয়াম লবণ রোদে রাখলে হয়তো এক্স-রের মতো রশ্মি দেয়। তিনি কালো কাগজে মোড়া ফটোগ্রাফিক প্লেটের ওপর ইউরেনিয়াম লবণ রেখে রোদে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু প্যারিসে কয়েক দিন মেঘলা ছিল, তাই সব একসাথে ড্রয়ারে রেখে দিলেন। পরে প্লেট ধুয়ে দেখলেন, রোদ ছাড়াই প্লেটে ইউরেনিয়ামের স্পষ্ট ছাপ পড়েছে! অর্থাৎ ইউরেনিয়াম নিজে নিজেই অদৃশ্য রশ্মি ছড়ায়। চোখ যা দেখে না, সেটা ধরতে বিজ্ঞানীরা অন্য 'চোখ' বানান।

রসায়ন

শ্রেণি ৯-১০ · ৮টি প্রশ্ন
রসায়ন · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৩

পদার্থের গঠন

  1. ২০টা মৌল ল্যাবে বানানো! নতুন মৌল বানায় কেমনে? আরও বানানো যাবে?মৌল, যৌগ, পরমাণু ও প্রতীক · পৃষ্ঠা ৩৭–৩৯

    পরমাণুর নিউক্লিয়াসকে আরেকটা নিউক্লিয়াস দিয়ে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে। কণা ত্বরক যন্ত্রে একটা হালকা মৌলের নিউক্লিয়াস প্রায় আলোর গতির দশ ভাগের এক ভাগ গতিতে ছুড়ে মারা হয় একটা ভারী মৌলের পাতে। কোটি কোটি ধাক্কার মধ্যে কখনো কখনো দুটো জোড়া লেগে নতুন, আরও ভারী মৌল তৈরি হয়। সমস্যা হলো, এগুলো এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগেরও কম সময় টিকে ভেঙে যায়, অনেক সময় মাত্র কয়েকটা পরমাণু তৈরি হয়। সবচেয়ে ভারী এখন পর্যন্ত ১১৮ নম্বর, ওগানেসন। ১১৯ আর ১২০ বানানোর চেষ্টা চলছে।

  2. আমার শরীরে লোহা আছে, তাইলে চুম্বক আমারে টানে না ক্যান?মৌল, যৌগ, পরমাণু ও প্রতীক · পৃষ্ঠা ৩৭–৩৯

    দুটো কারণে। প্রথমত, পরিমাণ খুব কম: পুরো শরীরে লোহা মাত্র ৩-৪ গ্রাম, একটা ছোট পেরেকের সমান, আর সেটা কোটি কোটি কোষে ছড়ানো। দ্বিতীয়ত, আর আসল কারণ, এই লোহা ধাতু অবস্থায় নেই। রক্তের হিমোগ্লোবিন অণুর ভেতরে একেকটা লোহার পরমাণু অন্য পরমাণুর সাথে বাঁধা থাকে, তখন সেটা চুম্বকের প্রতি পেরেকের মতো আচরণ করে না। চুম্বক টানে মূলত ধাতব লোহার মধ্যে সারি বেঁধে থাকা অনেক পরমাণুকে। তবে হাসপাতালের এমআরআই যন্ত্রের অনেক শক্তিশালী চুম্বক রক্তের সূক্ষ্ম চুম্বকীয় আচরণ টের পায়, সেটা দিয়েই মস্তিষ্কের ছবি তোলা হয়।

  3. হাইড্রোজেন জ্বলে, অক্সিজেন আগুন জ্বালায়। তাইলে এই দুইটা মিলা পানি আগুন নিভায় ক্যান?মৌল, যৌগ, পরমাণু ও প্রতীক · পৃষ্ঠা ৩৭–৩৯

    কারণ যৌগের ধর্ম তার উপাদানের ধর্ম থেকে একদম আলাদা হতে পারে। হাইড্রোজেন জ্বলা মানেই হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সাথে মিশে যাওয়া, আর সেই জ্বলার ফলই হলো পানি। পানি মানে যা পোড়ার, তা আগেই পুড়ে শেষ, আর জ্বলবে না। ছাই যেমন আর পোড়ে না। পানি আগুন নেভায় দুই ভাবে: আগুনের তাপ শুষে নিয়ে ভাপ হয়ে যায়, ফলে জ্বালানি ঠান্ডা হয়; আর ভাপ জ্বালানিকে ঢেকে বাতাসের অক্সিজেন আসতে দেয় না। একই রকম আরেক উদাহরণ: সোডিয়াম বিস্ফোরক ধাতু, ক্লোরিন বিষাক্ত গ্যাস, কিন্তু মিলে হয় খাবার লবণ।

    আরও পড়ুন:
  4. এত ছোট জিনিসের ওজন মাপলো কেমনে? কোন পাল্লায়?পরমাণুর সাংগঠনিক কণা · পৃষ্ঠা ৩৯–৪১

    পাল্লায় না, অন্যভাবে। একটা উপায় হলো 'ভর বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র'। এখানে পরমাণুকে চার্জযুক্ত করে চুম্বকের পাশ দিয়ে ছোটানো হয়। হালকা পরমাণু বেশি বাঁকে, ভারী পরমাণু কম। কতটা বাঁকল, তা দেখে ভর হিসাব করা যায়। আর আগে, যখন এই যন্ত্র ছিল না, তখন বিজ্ঞানীরা পরমাণুর একক ওজন জানতেন না, জানতেন অনুপাত: কোন মৌল কতগুণ ভারী। যেমন পানিতে অক্সিজেনের ওজন হাইড্রোজেনের ৮ গুণ, আর অনুপাতটা অণু অনুযায়ী মিলিয়ে বোঝা গেল অক্সিজেন পরমাণু হাইড্রোজেনের প্রায় ১৬ গুণ ভারী। পরে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা জানা গেলে আসল ওজনও বের হলো।

    আরও পড়ুন:
  5. পরমাণুর ভিতর সব ফাঁকা হইলে আমি দেয়ালের ভিতর দিয়া হাঁইটা যাইতে পারি না ক্যান?পরমাণুর মডেল · পৃষ্ঠা ৪২–৪৫

    কারণ 'ফাঁকা' মানে খালি জায়গা, কিন্তু সেখানে বল ঠিকই আছে। পরমাণুর বাইরের দিকে ইলেকট্রন থাকে, আর ইলেকট্রনের চার্জ ঋণাত্মক। আপনার হাতের পরমাণুর ইলেকট্রন আর দেয়ালের পরমাণুর ইলেকট্রন কাছাকাছি এলে একে অপরকে প্রচণ্ড জোরে ঠেলে সরিয়ে দেয়। তার ওপর কোয়ান্টাম বলবিদ্যার একটা নিয়ম (পাউলির বর্জন নীতি) বলে, দুটো ইলেকট্রন একই অবস্থায় একই জায়গায় থাকতে পারে না। তাই আপনি দেয়াল 'ছুঁয়েছেন' মনে হলেও আসলে কোনো পরমাণু কখনো অন্যটার গায়ে লাগে না, শুধু এই ঠেলা টের পান।

    আরও পড়ুন:
  6. রাদারফোর্ড ভিতরে না দেখে বুঝলো কেমনে মাঝখানে নিউক্লিয়াস আছে?পরমাণুর মডেল · পৃষ্ঠা ৪২–৪৫

    দেখেননি, বুঝেছেন ছুড়ে মেরে! ১৯০৯ সালে তাঁর ছাত্র গাইগার আর মার্সডেন খুব পাতলা সোনার পাতে আলফা কণা (ছোট, ধনাত্মক কণা) ছুড়ে মারলেন। বেশিরভাগ কণা পাত ভেদ করে সোজা চলে গেল, মানে ভেতরের বেশিরভাগটা ফাঁকা। কিন্তু প্রতি কয়েক হাজারে একটা কণা উল্টো দিকে ফিরে এলো! রাদারফোর্ড বলেছিলেন, এটা যেন টিস্যু পেপারে কামানের গোলা ছুড়ে মারলেন আর গোলা ফিরে এসে আপনাকেই লাগল। এমন হতে পারে শুধু যদি পরমাণুর মাঝখানে খুব ছোট্ট, ঘন, ধনাত্মক কিছু থাকে। সেটাই নিউক্লিয়াস।

  7. রাদারফোর্ডের মডেল ভুল, বোরেরটাও পুরা ঠিক না। তাইলে এখন যা পড়তেছি, সেইটাও কি পরে ভুল হবে?পরমাণুর মডেল · পৃষ্ঠা ৪২–৪৫

    হয়তো আরও নিখুঁত হবে, কিন্তু 'পুরো ভুল' হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিজ্ঞানে পুরোনো মডেল সাধারণত বাতিল হয় না, বরং তার সীমা ধরা পড়ে। বোরের মডেল দিয়ে আজও হাইড্রোজেনের আলোর রং ঠিকঠাক হিসাব করা যায়, শুধু বড় পরমাণুতে খাটে না। নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রও আইনস্টাইনের পর 'ভুল' হয়নি, তা দিয়েই আজও রকেট চাঁদে পাঠানো হয়। এখনকার কোয়ান্টাম মডেল লাখ লাখ পরীক্ষায় অবিশ্বাস্য নিখুঁতভাবে মিলেছে। ভবিষ্যতের তত্ত্বকে এই সব ফলও ব্যাখ্যা করতে হবে। তাই নতুন জ্ঞান আসলে পুরোনোটার ভেতরে আরও গভীরে যায়।

রসায়ন · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা

  1. এক মোলে ৬০২৩০০০০০০০০০০০০০০০০০০০টা অণু! এত ছোট জিনিস এতগুলা কেউ গুনলো কেমনে?মোল · পৃষ্ঠা ১১১

    কেউ গোনেনি, মাপা হয়েছে পরোক্ষভাবে। একটা উপায় তড়িৎ দিয়ে: এক মোল ইলেকট্রনের মোট চার্জ (ফ্যারাডে ধ্রুবক) মাপা যায় তড়িৎ বিশ্লেষণ করে, আর একটা ইলেকট্রনের চার্জ মাপা হয়েছিল মিলিকানের তেলের ফোঁটার পরীক্ষায়। মোট চার্জকে একটার চার্জ দিয়ে ভাগ করলেই সংখ্যাটা বের হয়। আরেকটা উপায় খুব নিখুঁত সিলিকনের একটা গোলক বানিয়ে, এক্স-রে দিয়ে তার পরমাণুগুলোর ফাঁক মেপে, পুরো গোলকে কটা পরমাণু আছে হিসাব করা। বিভিন্ন উপায়ে একই সংখ্যা আসায় আমরা নিশ্চিত। ২০১৯ সাল থেকে সংখ্যাটা একদম নির্দিষ্ট করে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন:

জীববিজ্ঞান

শ্রেণি ৯-১০ · ৩টি প্রশ্ন
জীববিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১

জীবন পাঠ

  1. যেই প্রাণী কেউ এখনো দেখেই নাই, সেগুলা মিলায়া মোট এক কোটি হবে, এইটা আন্দাজ করে কেমনে?জীবের শ্রেণিবিন্যাস · পৃষ্ঠা ৬–১১

    বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নতুন নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়ার হার ধীরে ধীরে কমছে, যেন একটা সীমার দিকে যাচ্ছে। সেই রেখাটা টেনে বাড়িয়ে আন্দাজ করা যায়, মোট কত হতে পারে। আরেকটা উপায়: খুব ভালো জানা একটা প্রাণীদল, যেমন পাখি বা স্তন্যপায়ী, তার সাথে কম জানা দলের অনুপাত মিলিয়ে দেখা। আবার জঙ্গলের একটা গাছ থেকে সব পোকা ঝেড়ে গুনে, তার কতগুলো নতুন, সেটা দিয়ে পুরো বনের হিসাব কষা হয়। এই কারণেই আন্দাজগুলো অনেক আলাদা, কেউ বলেন ৫০ লাখ, কেউ ৮৭ লাখ, কেউ আরও অনেক বেশি। এগুলো মাপা না, যুক্তি দিয়ে করা অনুমান।

জীববিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

জীবে পরিবহন

  1. রক্তের গ্রুপ আবিষ্কারের আগে কি মানুষ এক জনের রক্ত আরেক জনরে দিতো? তখন কী হইতো?মানবদেহে রক্ত সংবহন · পৃষ্ঠা ১৩৭–১৪৫

    হ্যাঁ, দিত, আর তাতে প্রায়ই ভয়ংকর ঘটনা ঘটত। ১৬০০ শতকে মানুষ এমনকি ভেড়ার রক্তও মানুষের শরীরে দিয়ে দেখেছিল, তাতে কয়েকজন মারা যায়, আর কয়েকটা দেশে রক্ত দেওয়া নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ১৮০০ শতকে মানুষ থেকে মানুষে রক্ত দেওয়া শুরু হলো, কিন্তু কেউ বাঁচত, কেউ কাঁপুনি, জ্বর আর কিডনি বিকল হয়ে মারা যেত। কেন এমন হয়, কেউ বুঝত না। ১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার দেখালেন, মানুষের রক্ত কয়েক ধরনের, ভুল ধরনের রক্ত মিশলে জমাট বেঁধে যায়। এর পর থেকে রক্ত মিলিয়ে দেওয়া শুরু হয়, আর তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

জীববিজ্ঞান · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১২

জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি

  1. পৃথিবীর বয়স সাড়ে চারশ কোটি বছর। এইটা মাপলো কেমনে?জৈব অভিব্যক্তি ও জীবনের আবির্ভাব · পৃষ্ঠা ২৭০–২৭৩

    তেজস্ক্রিয় ঘড়ি দিয়ে। কিছু পাথরের ভেতরে ইউরেনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় পরমাণু থাকে, যেগুলো একটা নির্দিষ্ট, অপরিবর্তনীয় হারে ভেঙে সীসা হয়ে যায়। পাথরে কতটা ইউরেনিয়াম বাকি আর কতটা সীসা জমেছে, সেটা মাপলে হিসাব করা যায় পাথরটা কত বছর আগে জমাট বেঁধেছিল। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো খনিজ কণা প্রায় ৪৪০ কোটি বছরের। কিন্তু পৃথিবীর একদম শুরুর পাথর ভেঙে-গলে হারিয়ে গেছে, তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে পড়া উল্কাপিণ্ডের বয়সও মাপেন, যেগুলো সৌরজগতের সাথে একই সময়ে জন্মেছে। সব মিলিয়ে আসে প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর।

গণিত

শ্রেণি ৬–১০ · ৮টি প্রশ্ন
গণিত · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ১

স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ

  1. 'অযুত' আর 'নিযুত' এখন কেউ বলে না ক্যান?দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণনা রীতি · পৃষ্ঠা ২–৫

    বলে, তবে খুব কম। অযুত মানে দশ হাজার, নিযুত মানে দশ লাখ। আমাদের পুরোনো গণনায় প্রতিটা ঘরের আলাদা নাম ছিল: একক, দশক, শতক, সহস্র, অযুত, লক্ষ, নিযুত, কোটি। কিন্তু মুখের কথায় মানুষ সহজটা বেছে নেয়: 'দশ হাজার' বা 'দশ লাখ' বলতে আলাদা শব্দ মনে রাখতে হয় না, পরিচিত শব্দের সাথে 'দশ' জুড়লেই হয়। আবার হাজার, লাখ, কোটি শব্দগুলো টাকা-পয়সার হিসাবে প্রতিদিন লাগে, তাই সেগুলো টিকে গেছে। ইংরেজিতেও এমন হয়েছে: 'মিরিয়াড' শব্দটা একসময় ঠিক দশ হাজার বোঝাত, এখন বোঝায় 'অগণিত'।

  2. আমরা লাখ-কোটিতে গুনি, ইংরেজিতে মিলিয়ন-বিলিয়ন। দুই নিয়ম আসলো ক্যান?দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণনা রীতি · পৃষ্ঠা ২–৫

    কারণ দুই অঞ্চলের মানুষ সংখ্যাকে আলাদা আকারের দলে ভাগ করত। ইংরেজিতে প্রতি তিন অঙ্কে নতুন নাম: হাজার, মিলিয়ন (দশ লাখ), বিলিয়ন (একশো কোটি)। আমাদের উপমহাদেশে হাজারের পর প্রতি দুই অঙ্কে নাম: লাখ, কোটি। তাই আমরা কমা বসাই ১০,০০,০০০ আর ইংরেজিতে 1,000,000, দুটো একই সংখ্যা। লাখ-কোটি শব্দগুলো সংস্কৃত থেকে এসেছে, আর এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা হাজার বছর ধরে এগুলোতে হিসাব রেখেছেন। মিলিয়ন শব্দটা ইতালিতে মাত্র ৭০০ বছর আগে চালু হয়েছিল। আর জানেন, ইংরেজিতেও একসময় 'বিলিয়ন' মানে ছিল দশ লাখ কোটি, ব্রিটেন ১৯৭৪ সালে আমেরিকার হিসাব মেনে নেয়।

  3. ৪ দিয়া ভাগ যায় কি না শেষ দুই অঙ্ক দেখলেই বুঝা যায়। ৭ দিয়া ভাগের এমন কোনো ট্রিক আছে?মৌলিক সংখ্যা ও বিভাজ্যতা · পৃষ্ঠা ৭–৮

    আছে, তবে ৪-এর মতো সহজ না। একটা উপায়: শেষ অঙ্কটা কেটে আলাদা করুন, সেটাকে দ্বিগুণ করুন, আর বাকি সংখ্যা থেকে বিয়োগ করুন। ফল যদি ৭ দিয়ে ভাগ যায়, মূল সংখ্যাও যায়। যেমন ৬৯৩: শেষ অঙ্ক ৩, দ্বিগুণ ৬, ৬৯ − ৬ = ৬৩, আর ৬৩ = ৭ × ৯। তাই ৬৯৩-ও ৭ দিয়ে ভাগ যায়। বড় সংখ্যায় এটা বারবার করা যায়। কেন কাজ করে, সেটা নিজে বের করার চেষ্টা করুন, একটা ইঙ্গিত দিই: ২১ সংখ্যাটা ৭ দিয়ে ভাগ যায়। ৪-এর ট্রিক সহজ কারণ ১০০ নিজেই ৪ দিয়ে ভাগ যায়, ৭-এর জন্য এমন সুবিধার সংখ্যা নেই।

গণিত · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ৪

বীজগাণিতিক রাশি

  1. অজানা সংখ্যা মানেই সবসময় x ক্যান? x-ই কেন প্রথম আসলো?বীজগাণিতিক প্রতীক, চলক, সহগ ও সূচক · পৃষ্ঠা ৭৬–৭৭

    এর পেছনে আছেন ফরাসি গণিতবিদ ও দার্শনিক রনে দেকার্ত। ১৬৩৭ সালে তাঁর বইয়ে তিনি ঠিক করলেন, বর্ণমালার শুরুর অক্ষর a, b, c হবে জানা সংখ্যা, আর শেষের অক্ষর x, y, z হবে অজানা। কেন তিনটার মধ্যে x বেশি চলল, তার একটা গল্প আছে যে ছাপাখানায় x অক্ষর বেশি ছিল, কিন্তু এর কোনো প্রমাণ নেই। 'আরবি শব্দ শাই (কিছু একটা) থেকে x এসেছে', এই জনপ্রিয় গল্পেরও পোক্ত প্রমাণ নেই। আসল কথা হলো, x বাধ্যতামূলক না। আপনি অজানা সংখ্যাকে ক, ? বা আপনার পছন্দের যেকোনো চিহ্ন দিয়ে লিখতে পারেন, অঙ্কের উত্তর একই আসবে।

    আরও পড়ুন:
গণিত · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ৬

জ্যামিতির মৌলিক ধারণা

  1. বিন্দুর কোনো মাপই নাই! তাইলে খাতায় আমি যেই বিন্দু আঁকলাম, ওইটা কি আসলে বিন্দু না?স্থান, তল, রেখা ও বিন্দু · পৃষ্ঠা ১০৬–১০৭

    ঠিক ধরেছেন, আসলে না! খাতার বিন্দুর একটা ছোট্ট মাপ আছে, কালির একটা ফোঁটা, অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখলে সেটা একটা দাগ। জ্যামিতির 'বিন্দু' একটা ধারণা, যা শুধু একটা অবস্থান বোঝায়, আকার না। খাতারটা হলো সেই ধারণার একটা ছবি, যেমন মানচিত্রে নদী আঁকলে সেটা আসল নদী না। একইভাবে খাতার রেখার পুরুত্ব আছে, জ্যামিতির রেখার নেই। গণিত এই আদর্শ জিনিস নিয়ে কাজ করে বলেই উত্তরগুলো নিখুঁত হয়, আর বাস্তবে আমরা এগুলোকে কাছাকাছি হিসেবে ব্যবহার করি।

    আরও পড়ুন:
গণিত · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ৭

ব্যবহারিক জ্যামিতি

  1. পুরা বৃত্তে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যান? ১০০ বা ১০০০ হইলে কী সমস্যা হইতো?রেখা ও জ্যামিতিক যন্ত্র · পৃষ্ঠা ১২৪–১২৫

    এটা প্রায় চার হাজার বছর পুরোনো ব্যাবিলনের উত্তরাধিকার। একটা ধারণা হলো, বছরে প্রায় ৩৬০ দিন, আর সূর্য আকাশে প্রতিদিন প্রায় এক ডিগ্রি করে সরে। আর ব্যাবিলনীয়রা ৬০ ভিত্তিক গণনা করত। আসল সুবিধা হলো ৩৬০ সংখ্যাটা অসাধারণভাবে ভাগ যায়: ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৫, ১৮, ২০, ২৪, ৩০, ৩৬, ৪০... মোট ২৪টা সংখ্যা দিয়ে। তাই বৃত্তকে তিন, ছয়, আট বা বারো ভাগ করলে সব কোণ পূর্ণসংখ্যা হয়। ১০০ হলে ৩ ভাগেই ঝামেলা। ফরাসিরা আসলে ৪০০ ভাগের 'গ্রেডিয়ান' চালু করেছিল, এখনো কিছু জরিপকারী ব্যবহার করেন। আর বিজ্ঞানীরা প্রায়ই রেডিয়ান ব্যবহার করেন, যেখানে পুরো বৃত্ত ২π।

গণিত · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৯

ত্রিভুজ

  1. সব ত্রিভুজের তিন কোণ মিলায়া ১৮০! পৃথিবীর মতো গোল জিনিসের উপর অনেক বড় ত্রিভুজ আঁকলেও কি ১৮০ হবে?ত্রিভুজের তিন কোণের যোগফল · পৃষ্ঠা ১২৮–১২৯

    না, বেশি হবে! এটা দারুণ একটা আবিষ্কার। ধরুন উত্তর মেরু থেকে সোজা দক্ষিণে বিষুবরেখা পর্যন্ত হাঁটলেন, তারপর ডানে ঘুরে বিষুবরেখা ধরে পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ পথ গেলেন, তারপর আবার ডানে ঘুরে সোজা উত্তর মেরুতে ফিরলেন। তিনটা কোণই ৯০°, মোট ২৭০°! গোলকের ওপর ত্রিভুজ যত বড়, কোণের যোগফল ১৮০°-এর চেয়ে তত বেশি। ছোট ত্রিভুজে এই বাড়তিটা এত কম যে মাপা যায় না, তাই খেলার মাঠে ১৮০° ঠিকই পাবেন। ১৮০° নিয়মটা শুধু সমতল জমির জন্য। গোলকের জ্যামিতি জাহাজ আর বিমানের পথ হিসাব করতে কাজে লাগে।

গণিত · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১০

দূরত্ব ও উচ্চতা

  1. এভারেস্টের উচ্চতা প্রথম কে মাপছিল? তখন তো কেউ উপরে উঠেই নাই!অধ্যায় পরিচিতি · পৃষ্ঠা ১৯৭

    এভারেস্টে ওঠার প্রায় ১০০ বছর আগে, ত্রিকোণমিতি দিয়ে! ব্রিটিশ আমলে ভারতের 'গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভে' পুরো উপমহাদেশ মাপছিল। ১৮৪০-এর দশকে জরিপকারীরা ভারতের সমভূমি থেকে, ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে, বিশাল যন্ত্র দিয়ে চূড়ার দিকে কোণ মাপলেন। দূরত্ব আর কোণ জানা থাকলে উচ্চতা বের করা যায়, আপনার বইয়ের অঙ্কের মতোই। ১৮৫২ সালের দিকে বাঙালি গণিতবিদ রাধানাথ শিকদার সেই হিসাব কষে দেখান যে 'চূড়া ১৫' পৃথিবীর সর্বোচ্চ। তাঁদের হিসাব ছিল ২৯,০০২ ফুট, এখনকার মাপ ২৯,০৩২ ফুট (৮,৮৪৯ মিটার), প্রায় মিলে যায়!

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

শ্রেণি ৩–১০ · ৪৩টি প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৪

আমাদের ইতিহাস

  1. নয় মাস যুদ্ধ চলছিল। তখন বাচ্চারা কি স্কুলে যাইতো?আমাদের বিজয় দিবস · পৃষ্ঠা ৩৫–৩৮

    বেশিরভাগ জায়গায় ঠিকমতো যেতে পারত না। যুদ্ধের সময় অনেক স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল, অনেক স্কুলে সৈন্যরা ক্যাম্প বানিয়েছিল। পাকিস্তান সরকার দেখাতে চাইছিল সব স্বাভাবিক, তাই স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু ভয়ে আর প্রতিবাদে অনেক পরিবার বাচ্চাদের পাঠায়নি। লাখ লাখ পরিবার গ্রামে বা ভারতের শরণার্থী শিবিরে চলে গিয়েছিল, সেখানে কোথাও কোথাও ছোট ছোট স্কুলও চলত। অনেক বড় ছাত্র তো সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। বাড়ির বড়দের জিজ্ঞেস করে দেখুন, তাঁদের নিজেদের গল্পও থাকতে পারে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ৫

আমাদের সংস্কৃতি

  1. পৃথিবীতে মোট কয়টা ভাষা আছে? একদম প্রথম ভাষাটা কেমনে শুরু হইছিল?আমাদের ভাষা, খাবার ও পোশাক · পৃষ্ঠা ৪০–৪২

    এখন পৃথিবীতে প্রায় ৭,০০০ ভাষা আছে, তার অনেকগুলোতে মাত্র কয়েক হাজার বা তারও কম মানুষ কথা বলে। প্রথম ভাষা কীভাবে শুরু হয়েছিল, সেটা কেউ জানে না, কারণ কথা বাতাসে মিলিয়ে যায়, কোনো চিহ্ন রেখে যায় না। লেখা এসেছে মাত্র ৫ হাজার বছর আগে, কিন্তু মানুষ কথা বলছে তার অনেক আগে থেকে, হয়তো ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ বছর ধরে। বিজ্ঞানীরা শিশুরা কীভাবে ভাষা শেখে, অন্য প্রাণী কীভাবে ডাকে, আর প্রাচীন মানুষের খুলি ও গলার হাড় দেখে অনুমান করার চেষ্টা করেন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ১০

আমাদের দেশ

  1. ম্যাপে উত্তর সবসময় উপরে থাকে ক্যান? উল্টা কইরা আঁকলে কি ভুল হইবো?বাংলাদেশের মানচিত্র · পৃষ্ঠা ৮৩–৮৫

    এটা একটা অভ্যাস, প্রকৃতির কোনো নিয়ম না। মহাকাশে আসলে কোনো 'উপর' নেই। অনেক পুরোনো ইউরোপীয় মানচিত্রে পূর্ব দিক উপরে থাকত, আর বিখ্যাত মুসলিম মানচিত্রকার আল-ইদ্রিসির মানচিত্রে দক্ষিণ উপরে। পরে ইউরোপের নাবিকরা কম্পাসের উত্তর দিক ধরে মানচিত্র বানাতে লাগলেন, সেটাই ছাপা হয়ে সবখানে ছড়িয়ে গেল। তাই উল্টো করে আঁকলে ভুল হবে না, শুধু দেখতে অচেনা লাগবে। একবার দক্ষিণ উপরে রেখে পৃথিবীর মানচিত্র দেখে নিন, বাংলাদেশকে চিনতেও একটু সময় লাগবে!

  2. দেশে কত মানুষ আছে এইটা গুনে কেমনে? সবার বাড়ি বাড়ি গিয়া গুনে?বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও সম্পদ · পৃষ্ঠা ৯১–৯৩

    হ্যাঁ, সত্যিই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গোনা হয়। একে বলে আদমশুমারি বা জনশুমারি। বাংলাদেশে সাধারণত দশ বছর পরপর এটা হয়। লাখো গণনাকারী একই সপ্তাহে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েন, প্রতিটা ঘরে গিয়ে কতজন থাকে, বয়স কত, এসব লিখে নেন। ২০২২ সালের শুমারিতে কাগজের বদলে ট্যাবলেটে তথ্য তোলা হয়েছিল, তাতে গোনা গেছে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। যাঁদের ঘর নেই, তাঁদেরও আলাদা করে গোনার ব্যবস্থা থাকে। পরে কিছু এলাকায় আবার গুনে দেখা হয়, প্রথমবার কতজন বাদ পড়েছিল।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · তৃতীয় শ্রেণি · অধ্যায় ১২

টাকার ব্যবহার

  1. টাকা আসার আগে মানুষ জিনিস কিনতো কেমনে?আমার জীবনে টাকার ব্যবহার · পৃষ্ঠা ১০৫–১০৬

    জিনিসের বদলে জিনিস দিয়ে, একে বলে বিনিময় প্রথা। ধরুন আপনার কাছে ধান আছে, আপনার দরকার মাছ। মুশকিল হলো, জেলের যদি তখন ধান না লাগে? এই ঝামেলা থেকেই মানুষ এমন কিছু বেছে নিল যেটা সবাই নেয়: কোথাও কড়ি, কোথাও লবণ, কোথাও গরু, কোথাও ধাতুর টুকরা। আমাদের এই অঞ্চলেও অনেক দিন কড়ি দিয়ে কেনাকাটা চলেছে। পরে এল ধাতুর মুদ্রা, তারও অনেক পরে কাগজের টাকা।

  2. টাকা তো একটা কাগজ। এই কাগজের এত দাম ক্যান? সরকার বেশি বেশি টাকা ছাপায় দেয় না ক্যান?আমার জীবনে টাকার ব্যবহার · পৃষ্ঠা ১০৫–১০৬

    টাকার দাম আসে বিশ্বাস থেকে। আপনি একটা নোট নেন, কারণ জানেন দোকানদারও এটা নেবেন, আর সরকারও এই টাকায় কর নেয়। কাগজটার নিজের দাম প্রায় কিছুই না। সরকার যদি ইচ্ছামতো টাকা ছাপায়, তাহলে বাজারে জিনিস তো বাড়ে না, শুধু টাকা বাড়ে। তখন একই চাল কিনতে আরও বেশি টাকা লাগে, অর্থাৎ দাম বেড়ে যায়। একে বলে মুদ্রাস্ফীতি। জিম্বাবুয়ে একসময় এত টাকা ছাপিয়েছিল যে এক রুটি কিনতে বস্তাভরা নোট লাগত, শেষে ১০০ লাখ কোটি ডলারের নোটও ছাপতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ১০

এশিয়া মহাদেশ

  1. পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ এশিয়ায় থাকে ক্যান? অন্য মহাদেশে কম ক্যান?বৃহত্তম মহাদেশ · পৃষ্ঠা ৪৮–৪৯

    এশিয়ায় পৃথিবীর বড় বড় উর্বর নদী-অববাহিকা আছে: গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, ইয়াংসি, মেকং। মৌসুমি বৃষ্টি আর পলিমাটিতে ধান জন্মে খুব ভালো, আর ধানের খেত অল্প জমিতে অনেক মানুষকে খাওয়াতে পারে। তাই হাজার হাজার বছর ধরে এখানে ঘন বসতি গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশ মরুভূমি, সাইবেরিয়া আর কানাডা খুব ঠান্ডা। তবে এটা বদলাচ্ছে: এখন আফ্রিকার জনসংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · চতুর্থ শ্রেণি · অধ্যায় ১৪

আমাদের ইতিহাস

  1. তখন তো ক্যামেরা ছিল না, রাজার ছবি আঁকলো কেমনে? উনি দেখতে আসলেই এমন ছিল?প্রাচীন যুগ · পৃষ্ঠা ৭০–৭১

    বেশিরভাগ পুরোনো রাজার যে ছবি বইয়ে দেখেন, সেটা তাঁর জীবদ্দশায় আঁকা না, অনেক পরে শিল্পীর কল্পনায় আঁকা। তাই দেখতে আসলে কেমন ছিলেন, তা আমরা প্রায়ই জানি না। কিছু রাজার আমলের মুদ্রায় তাঁর মুখ খোদাই করা থাকে, সেটা কাছাকাছি একটা ধারণা দেয়। মোগল আমলে দরবারের শিল্পীরা সম্রাটদের সামনে বসিয়ে ছবি আঁকতেন, সেগুলো বেশ বিশ্বাসযোগ্য। তবে মনে রাখবেন, রাজার ছবি সাধারণত রাজাকে খুশি করার জন্যই আঁকা হতো, তাই একটু সুন্দর করে আঁকা হওয়াই স্বাভাবিক।

    আরও পড়ুন:
  2. বখতিয়ার খিলজি অল্প কয়জন সৈন্য নিয়া জিতলো কেমনে?মুসলিম শাসনামল · পৃষ্ঠা ৭২–৭৩

    ১২০৪ সালের দিকে বখতিয়ার খিলজি নদীয়া আক্রমণ করেন। ইতিহাসবিদ মিনহাজ-ই-সিরাজের বিবরণ বলে, তিনি মূল বাহিনীকে পেছনে রেখে মাত্র ১৭-১৮ জন ঘোড়সওয়ার নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান। শহরের লোকেরা ভেবেছিল এরা ঘোড়া বেচতে আসা ব্যবসায়ী। হঠাৎ আক্রমণে রাজা লক্ষ্মণসেন প্রাসাদের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান। পেছনের বড় বাহিনী এসে শহর দখল করে। অর্থাৎ জয়টা এসেছিল চমকে দেওয়া আর রাজার পালিয়ে যাওয়া থেকে, শুধু ১৭ জনের যুদ্ধ থেকে নয়।

    আরও পড়ুন:
  3. এক টাকায় আট মন চাল! তখন মানুষের বেতন কত ছিল?মুসলিম শাসনামল · পৃষ্ঠা ৭২–৭৩

    শায়েস্তা খানের আমলের (১৬০০ শতকের শেষ দিক) এই কথাটা খুব বিখ্যাত। তবে তখনকার মজুরির হিসাব খুব কম পাওয়া যায়, তাই পরিষ্কার উত্তর দেওয়া কঠিন। একটা জিনিস বুঝতে হবে: তখনকার টাকা ছিল খাঁটি রুপার মুদ্রা, আর সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা খুব কমই থাকত। অনেক কৃষক সারা বছরে হয়তো কয়েকটা টাকাই চোখে দেখতেন, বেশিরভাগ লেনদেন হতো ফসল আর কড়িতে। তাই 'এক টাকায় আট মন চাল' মানে সবাই সস্তায় খেত, এমন না। এক টাকা তখন অনেক বড় অঙ্ক ছিল।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ১

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন

  1. এত পুরান শহর মাটির নিচে চাপা পড়লো কেমনে? এত মাটি আসলো কোত্থেকে?মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বর · পৃষ্ঠা ২–৩

    একবারে না, ধীরে ধীরে, শত শত বছর ধরে। মানুষ চলে গেলে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে, ইট-কাঠ-মাটির স্তূপ হয়ে যায়। তার ওপর বাতাস ধুলা আনে, বন্যার পানি পলি রেখে যায়, ঘাস-গাছ জন্মে আর পচে মাটি হয়। আবার অনেক সময় মানুষ পুরোনো শহরের ধ্বংসাবশেষের ওপরই নতুন ঘর বানাত, তাই শহর স্তরে স্তরে উঁচু হতো। এভাবে মহাস্থানগড় বা উয়ারী-বটেশ্বরের মতো জায়গা উঁচু ঢিবি হয়ে মাটির নিচে চলে গেছে।

  2. ব্রাহ্মী লিপি তো এখন কেউ লেখে না, তাইলে এইটা পড়া শিখলো কেমনে?মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বর · পৃষ্ঠা ২–৩

    এর পেছনে একজন মানুষের অনেক বছরের খাটুনি আছে। ১৮৩৭ সালে জেমস প্রিন্সেপ নামের এক ইংরেজ কলকাতায় বসে ব্রাহ্মী পড়ার রহস্য খোলেন। তিনি খেয়াল করলেন, অশোকের অনেক শিলালিপির শেষে একই ছোট শব্দ বারবার আসে, ধারণা করলেন এটা 'দানং' (দান)। আরও কাজে লাগল কিছু মুদ্রা, যেগুলোর এক পিঠে গ্রিক অক্ষরে আর অন্য পিঠে ব্রাহ্মীতে রাজার নাম লেখা ছিল। গ্রিক জানা ছিল, তাই নাম মিলিয়ে অক্ষর চেনা গেল। আর মজার কথা, বাংলা অক্ষর ব্রাহ্মী থেকেই এসেছে।

  3. তখনকার রুপার পয়সা দিয়া কী কিনা যাইতো? এক পয়সায় কতটুক চাল পাওয়া যাইতো?মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বর · পৃষ্ঠা ২–৩

    এর ঠিক উত্তর কেউ দিতে পারে না, কারণ সেই আমলের দামের তালিকা প্রায় টিকে নেই। পুরোনো ছাপাঙ্কিত রুপার মুদ্রা পাওয়া যায় অনেক, কিন্তু সেগুলো দিয়ে কী কেনা হতো, সেটা খুব কম লেখায় আছে। ইতিহাসবিদরা কিছু দানপত্র, জমি বিক্রির তামার পাত আর বিদেশি পর্যটকদের বিবরণ থেকে আন্দাজ করেন। এটুকু বলা যায়: রুপার মুদ্রা ছিল দামি জিনিস, বড় কেনাবেচায় লাগত। ছোটখাটো বাজারের কাজ চলত কড়ি দিয়ে।

    আরও পড়ুন:
  4. ওই সময়ের ছাত্ররা কী পড়তো? ওদেরও কি পরীক্ষা দিতে হইতো?পাহাড়পুর ও ময়নামতি · পৃষ্ঠা ৪–৫

    সেকালের বড় বড় বৌদ্ধ বিহার, যেমন পাহাড়পুরের সোমপুর বিহার বা নালন্দা, আসলে বিশাল আবাসিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে ধর্মের পাশাপাশি পড়ানো হতো ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা, গণিত আর জ্যোতির্বিদ্যা। লিখিত পরীক্ষা ছিল না, কিন্তু কঠিন পরীক্ষা ঠিকই ছিল! চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং লিখেছেন, নালন্দার দরজাতেই পণ্ডিতরা প্রশ্ন করে যাচাই করতেন, অনেকেই সেখানে আটকে ফিরে যেত। ভেতরে তর্ক-বিতর্কে জিতে নিজের জ্ঞান প্রমাণ করতে হতো।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ২

ব্রিটিশ শাসন

  1. একটা কোম্পানি কেমনে একটা দেশ চালায়? এখনকার কোম্পানিরাও কি পারবে?বাংলায় ব্রিটিশ শাসন · পৃষ্ঠা ১২–১৩

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শুরুতে শুধু ব্যবসা করত। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের অনুমতি নিয়ে তারা নিজস্ব সেনাবাহিনী রাখত, দুর্গ বানাত, যুদ্ধ করত। ১৭৫৭ সালে পলাশী আর ১৭৬৫ সালে বাংলার রাজস্ব আদায়ের অধিকার (দেওয়ানি) পাওয়ার পর কোম্পানিই কার্যত দেশ চালাতে লাগল, কর তুলত, বিচার করত। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ রাজশক্তি নিজেই শাসনভার নিয়ে নেয়। এখন কোনো কোম্পানির নিজের সেনাবাহিনী রাখার অধিকার নেই, তবে বড় কোম্পানিরা সরকারের নীতিতে প্রভাব ফেলে, এটা আজও আলোচনার বিষয়।

    আরও পড়ুন:
  2. বাঁশের কেল্লা দিয়া কামানের সাথে লড়াই? তিতুমীর বাঁশ বাছলো ক্যান?তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা এবং সিপাহি বিদ্রোহ · পৃষ্ঠা ১৪–১৫

    ১৮৩১ সালে নারকেলবাড়িয়ায় তিতুমীর বাঁশের কেল্লা বানান। বাঁশ বেছে নেওয়ার কারণ সহজ: গ্রামবাংলায় বাঁশ সবখানে পাওয়া যায়, সস্তা, আর খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় ঘেরা বানানো যায়। তাঁর অনুসারীরা ছিলেন সাধারণ কৃষক, ইট-পাথরের দুর্গ বানানোর টাকা বা সময় কোনোটাই ছিল না। লাঠি আর তলোয়ার নিয়ে লড়া জমিদারের লোকজনের বিরুদ্ধে কেল্লাটা ভালোই কাজ করেছিল। কিন্তু ব্রিটিশরা কামান নিয়ে এলে কেল্লা ভেঙে পড়ে, তিতুমীর শহিদ হন।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ৪

আমাদের অর্থনীতি: কৃষি ও শিল্প

  1. পাট দিয়া প্লাস্টিকের মতো ব্যাগ বানানো যায়? পাটের এত গুণ, তাও আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার করি ক্যান?পাট, চা ও তামাক · পৃষ্ঠা ৩৪–৩৫

    যায়! বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান পাটের সেলুলোজ থেকে পলিথিনের মতো পাতলা ব্যাগ বানিয়েছেন, নাম 'সোনালি ব্যাগ'। এটা মাটিতে কয়েক মাসে মিশে যায়, আর প্লাস্টিক টিকে থাকে শত শত বছর। তবু আমরা প্লাস্টিক বেশি ব্যবহার করি, কারণ প্লাস্টিক তেল থেকে কারখানায় বিপুল পরিমাণে খুব সস্তায় তৈরি হয়। পাটের ব্যাগ বানানোর খরচ এখনো বেশি, আর বড় কারখানায় উৎপাদন শুরু হতে সময় লাগছে। দাম কমে এলে এই হিসাব বদলে যেতে পারে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · পঞ্চম শ্রেণি · অধ্যায় ১২

বাংলাদেশ ও বিশ্ব

  1. পৃথিবীতে কি সবসময় ১৯৫টা দেশ ছিল? একটা নতুন দেশ বানায় কেমনে?জাতিসংঘ · পৃষ্ঠা ৯০–৯১

    না! ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ যখন তৈরি হয়, সদস্য ছিল মাত্র ৫১টা দেশ। তখন এশিয়া আর আফ্রিকার বেশিরভাগ জায়গা ইউরোপের দেশগুলোর উপনিবেশ ছিল। পরের কয়েক দশকে এগুলো একে একে স্বাধীন হয়, বাংলাদেশও তাদের একটা (১৯৭১)। নতুন দেশ হতে লাগে একটা নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সেখানকার মানুষ, নিজস্ব সরকার, আর অন্য দেশগুলোর স্বীকৃতি। সবচেয়ে নতুন দেশ দক্ষিণ সুদান, ২০১১ সালে স্বাধীন হয়েছে। আর '১৯৫' সংখ্যাটাও সবাই একভাবে গোনে না, কোন দেশকে কে স্বীকৃতি দেয় তার ওপর নির্ভর করে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ১

সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস

  1. নেকড়ের মতো বন্য প্রাণী কেমনে কুকুর হইয়া মানুষের বন্ধু হইলো? প্রথম কুকুর কে পুষছিল?শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ থেকে পশুপালন · পৃষ্ঠা ৩–৪

    কেউ একজন বসে নেকড়ে পোষেনি, ব্যাপারটা হয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে, নিজে নিজে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ১৫ থেকে ৩০ হাজার বছর আগে কিছু নেকড়ে শিকারি মানুষের ক্যাম্পের আশেপাশে ঘুরত, ফেলে দেওয়া হাড়-মাংসের লোভে। যেগুলো একটু কম ভীতু আর কম হিংস্র, তারাই মানুষের কাছে টিকে থাকত আর বাচ্চা দিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবে বাছাই হতে হতে তারা পোষ মানা কুকুর হয়ে গেল। জার্মানিতে প্রায় ১৪ হাজার বছর আগের এক কবরে মানুষের সাথে একটা কুকুরকেও কবর দেওয়া পাওয়া গেছে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ২

বাংলাদেশের ইতিহাস

  1. পাথর তো এমনিতেও ভাঙে, তাইলে কোনটা মানুষের বানানো হাতিয়ার বুঝে কেমনে?প্রাচীন বাংলা ও মৌর্য যুগ · পৃষ্ঠা ৯–১১

    মানুষের হাতে বানানো পাথরের হাতিয়ারে কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন থাকে। আঘাত করে চলটা তুললে পাথরের গায়ে একটা ফোলা অংশ আর ঢেউয়ের মতো দাগ পড়ে, আর পরপর অনেকগুলো চলটা একই দিক থেকে, একটা পরিকল্পনা মেনে তোলা থাকে। নদীর স্রোতে বা গড়িয়ে পড়ে ভাঙা পাথরে এমন সাজানো দাগ থাকে না। তা ছাড়া একই জায়গায় অনেকগুলো হাতিয়ার, ভাঙা চলটা আর কখনো আগুনের চিহ্ন একসাথে পাওয়া যায়, যেন সেখানে কেউ বসে কাজ করছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদরা নিজেরাও পাথর ঠুকে হাতিয়ার বানিয়ে মিলিয়ে দেখেন।

    আরও পড়ুন:
  2. যাযাবররা বর্ষাকালে কই থাকতো? বাংলায় তো সব ডুবে যায়!প্রাচীন বাংলা ও মৌর্য যুগ · পৃষ্ঠা ৯–১১

    এটা নিয়ে খুব বেশি প্রমাণ নেই, তবে যুক্তি দিয়ে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। বাংলার সব জায়গা একসাথে ডোবে না। লালমাই, মধুপুর, বরেন্দ্রভূমি আর সিলেট-চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা উঁচু, সেখানে বন্যার পানি ওঠে না। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরোনো পাথরের হাতিয়ারগুলো পাওয়া গেছে ঠিক এইসব উঁচু জায়গাতেই। যাযাবর মানুষ সম্ভবত ঋতু বুঝে জায়গা বদলাত: শুকনো মৌসুমে নিচে নামত মাছ আর শিকারের জন্য, বর্ষায় উঠে যেত উঁচুতে।

    আরও পড়ুন:
  3. পাথরের গায়ে লেখা, কিন্তু কোন রাজার লেখা সেইটা বুঝে কেমনে?প্রাচীন বাংলা ও মৌর্য যুগ · পৃষ্ঠা ৯–১১

    অনেক শিলালিপি আর তাম্রলিপিতে রাজার নাম, উপাধি, এমনকি বাবা-দাদার নামও লেখা থাকে, যেমন 'মহারাজাধিরাজ অমুক, তমুকের পুত্র'। কোনো কোনোটায় 'রাজত্বের অমুক বছরে' লেখা থাকে। যেখানে নাম নেই, সেখানে অক্ষরের গড়ন দেখে সময় আন্দাজ করা হয়, কারণ লিপি শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে একটু একটু বদলেছে। তারপর মিলিয়ে দেখা হয় একই রাজার অন্য লিপি, মুদ্রা আর বিদেশি বিবরণের সাথে। এই পুরো কাজটার নাম লিপিবিদ্যা।

    আরও পড়ুন:
  4. গোপালরে রাজা বানাইলো কে? সবাই রাজি হইলো কেমনে?প্রাচীন বাংলা ও মৌর্য যুগ · পৃষ্ঠা ৯–১১

    এর প্রমাণ আছে পাল রাজা ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রলিপিতে। সেখানে লেখা, দেশে তখন 'মাৎস্যন্যায়' চলছিল, মানে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খায়, শক্তিশালীরা তেমন দুর্বলদের ওপর অত্যাচার করছিল। সেই অরাজকতা থামাতে 'প্রকৃতি' গোপালকে রাজা হিসেবে বেছে নেয়। 'প্রকৃতি' মানে সাধারণ মানুষ নাকি এলাকার প্রধানরা, তা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে তর্ক আছে, আর লিপিটা গোপালের নিজের ছেলের আমলের, তাই একটু প্রশংসা মেশানো থাকতে পারে। তবু 'নির্বাচিত রাজা' হিসেবে গোপাল ইতিহাসে বিশেষ জায়গা পেয়েছেন।

  5. অতীশ দীপঙ্কর হিমালয় পার হইয়া তিব্বত গেছিল কেমনে?শশাঙ্ক ও পাল যুগ · পৃষ্ঠা ১১–১৩

    পায়ে হেঁটে আর ঘোড়ায় চড়ে, অনেক সময় নিয়ে। প্রায় ১০৪০ সালে তিনি বিক্রমশীলা বিহার থেকে রওনা দেন, পথে নেপালে বেশ কিছুদিন থাকেন, তিব্বতে পৌঁছান প্রায় দুই বছর পর। তখনকার ব্যবসায়ী আর তীর্থযাত্রীরা হিমালয়ের গিরিপথ দিয়ে দল বেঁধে যাতায়াত করতেন, তাঁর সঙ্গেও তিব্বতি অনুসারী আর পথপ্রদর্শক ছিলেন। পথে ঠান্ডা, উঁচু পাহাড়ে শ্বাসকষ্ট আর ডাকাতের ভয় ছিল। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৬০, ভাবুন একবার!

    আরও পড়ুন:
  6. বইয়ে বলে 'জনশ্রুতি আছে'। তাইলে কোনটা সত্যি আর কোনটা গল্প, ইতিহাসবিদরা বুঝে কেমনে?পাল যুগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি · পৃষ্ঠা ১৩–১৪

    ইতিহাসবিদরা কয়েকটা প্রশ্ন করেন। গল্পটা প্রথম কোথায় লেখা হয়েছে, ঘটনার কত দিন পরে? যিনি লিখেছেন, তিনি নিজে দেখেছিলেন, নাকি শুনেছেন? অন্য কোনো আলাদা উৎস, যেমন শিলালিপি, মুদ্রা বা বিদেশি পর্যটকের লেখা, একই কথা বলে কি না? মাটি খুঁড়ে পাওয়া জিনিস কি গল্পের সাথে মেলে? যত বেশি আলাদা উৎস মিলে যায়, তত বেশি ভরসা। কিছু না মিললে ইতিহাসবিদরা সৎভাবে লেখেন 'জনশ্রুতি আছে', মানে লোকে বলে, কিন্তু প্রমাণ নেই।

    আরও পড়ুন:
  7. হাজার বছর আগের বাংলা চর্যাপদ পড়লে কি আমি বুঝবো?সেন যুগ · পৃষ্ঠা ১৪–১৫

    পুরোটা না, তবে কিছু শব্দ চিনতে পারবেন! চর্যাপদের ভাষা প্রায় হাজার বছর আগের, বাংলা তখন সবে জন্ম নিচ্ছে। যেমন একটা পদ: 'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী। হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী।' মানে, টিলার ওপর আমার ঘর, প্রতিবেশী নেই; হাঁড়িতে ভাত নেই, তবু রোজ অতিথি আসে। 'ঘর', 'ভাত', 'হাঁড়ি' এখনো একই আছে, তাই না? পুরোনো ইংরেজিও আজকের ইংরেজদের কাছে প্রায় বিদেশি ভাষার মতো লাগে। ভাষা নদীর মতো, ধীরে ধীরে বয়ে বদলায়।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · ষষ্ঠ শ্রেণি · অধ্যায় ৬

বাংলাদেশের পরিবেশ

  1. সমুদ্রের পানি কতটুকু বাড়লো, এইটা মাপে কেমনে? ঢেউ তো সারাক্ষণ উঠানামা করে।পরিবেশগত সমস্যা: কারণ ও প্রভাব · পৃষ্ঠা ৪৩–৪৪

    দারুণ প্রশ্ন, কারণ ঢেউ আর জোয়ার-ভাটার ওঠানামা সত্যিই সমুদ্রের মাপকে প্রতি মিনিটে বদলে দেয়। তাই একবার মাপা হয় না, বছরের পর বছর মাপা হয়। উপকূলে 'টাইড গেজ' নামের যন্ত্র বসানো থাকে, যা প্রতি কয়েক মিনিটে পানির উচ্চতা লিখে রাখে। পুরো মাস বা পুরো বছরের গড় নিলে ঢেউ আর জোয়ারের ওঠানামা কেটে যায়, থাকে আসল গড় উচ্চতা। ১৯৯৩ সাল থেকে উপগ্রহও মহাকাশ থেকে রাডার দিয়ে সারা পৃথিবীর সমুদ্র মাপছে। এখন বছরে গড়ে ৩-৪ মিলিমিটার করে বাড়ছে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ২

বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

  1. ব্যাঙের বিয়া দিলে বৃষ্টি হয়, এই বিশ্বাস আসলো কেমনে? বৃষ্টির আগে ব্যাঙ বেশি ডাকে, এইটা কি সত্যি?বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি · পৃষ্ঠা ২৩–২৪

    ব্যাঙ বৃষ্টির ঠিক আগে না, বরং বর্ষা শুরু হলে বেশি ডাকে। বৃষ্টির পানিতে ডোবা-নালা ভরে গেলে ব্যাঙের ডিম পাড়ার সময় হয়, তখন পুরুষ ব্যাঙ ডেকে সঙ্গী খোঁজে। বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও ওরা সাড়া দেয়। মানুষ হাজার বছর ধরে দেখেছে 'ব্যাঙের ডাক' আর 'বৃষ্টি' একসাথে আসে, তাই ভেবেছে ব্যাঙকে খুশি করলে বৃষ্টি আসবে। কিন্তু আসল ঘটনা উল্টো: বৃষ্টি আসে বলেই ব্যাঙ ডাকে। দুটো জিনিস একসাথে ঘটলেই একটা অন্যটার কারণ হয় না, এটা বিজ্ঞানের খুব দরকারি শিক্ষা।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

বাংলাদেশের জলবায়ু

  1. মৌসুমি বাতাস প্রতি বছর ঠিক সময়মতো দিক বদলায় কেমনে? বাতাস কি ক্যালেন্ডার চিনে?বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি · পৃষ্ঠা ৫৩–৫৪

    বাতাস ক্যালেন্ডার চেনে না, কিন্তু সূর্য চেনে! গ্রীষ্মে সূর্য উত্তর দিকে সরে এলে ভারতীয় উপমহাদেশের স্থলভাগ সমুদ্রের চেয়ে অনেক বেশি গরম হয়। গরম বাতাস উপরে ওঠে, তার জায়গা নিতে বঙ্গোপসাগর থেকে ভেজা বাতাস ছুটে আসে, আনে বৃষ্টি। শীতে ঘটে উল্টোটা: স্থল ঠান্ডা, বাতাস বয় স্থল থেকে সমুদ্রের দিকে, শুকনো। পৃথিবী প্রতি বছর একইভাবে সূর্যকে ঘোরে বলে মৌসুমও মোটামুটি একই সময়ে আসে। তবে একদম ঘড়ি ধরে না, কোনো বছর বর্ষা কয়েক সপ্তাহ আগে বা পরে আসে।

    আরও পড়ুন:
  2. হিমালয় না থাকলে বাংলাদেশ কেমন হইতো? এত উঁচা পাহাড় বানাইলো কে?বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রকৃতি · পৃষ্ঠা ৫৩–৫৪

    হিমালয় কেউ বানায়নি, দুইটা মহাদেশের ধাক্কায় তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫ কোটি বছর আগে ভারতীয় ভূখণ্ড উত্তরে ভেসে এসে এশিয়ার সাথে ধাক্কা খায়, মাঝখানের মাটি-পাথর ভাঁজ হয়ে উপরে উঠে যায়। এখনো সেই ধাক্কা চলছে, হিমালয় বছরে কয়েক মিলিমিটার করে উঁচু হচ্ছে। হিমালয় না থাকলে বাংলাদেশ খুব আলাদা হতো: মৌসুমি মেঘ আটকে বৃষ্টি ঝরানোর দেয়াল থাকত না, উত্তরের হিম বাতাস ঢুকে পড়ত। আর পদ্মা-যমুনা যে পলি এনে বাংলাদেশের মাটি বানিয়েছে, সেটাও আসে হিমালয় থেকেই।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ১০

এশিয়ার কয়েকটি দেশ

  1. পাঁচ হাজার বছর আগের একটা পুরা শহর মাটির নিচে চাপা পড়লো কেমনে? আর খুঁইজা পাইলো কেমনে?বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্ক · পৃষ্ঠা ৯৪–৯৬

    মহেঞ্জোদারো হঠাৎ চাপা পড়েনি। সম্ভবত নদীর গতিপথ বদলানো, বন্যা আর আবহাওয়া বদলের কারণে মানুষ ধীরে ধীরে শহর ছেড়ে চলে যায়। তারপর হাজার বছরে ধুলা আর পলি জমে শহর ঢিবি হয়ে যায়। খুঁজে পাওয়ার গল্পটা মজার। ১৯২০-এর দশকে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় নামের একজন বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ সেখানে একটা বৌদ্ধ স্তূপ খুঁড়তে গিয়ে নিচে আরও অনেক পুরোনো ইট আর সিল পান। মিলিয়ে দেখা গেল, হরপ্পায় পাওয়া জিনিসের সাথে হুবহু মেলে, এক বিশাল হারানো সভ্যতা।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ২

ঔপনিবেশিক যুগের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য

  1. তখন তো সিমেন্ট ছিল না, ২০০ বছর আগের দালান কী দিয়া জোড়া লাগাইতো যে এখনো দাঁড়ায় আছে?ঢাকা শহরের প্রত্নিদর্শন · পৃষ্ঠা ১৩–১৪

    চুন-সুরকি দিয়ে! চুনাপাথর বা শামুক-ঝিনুকের খোলা পুড়িয়ে চুন বানানো হতো, তার সাথে মেশানো হতো ইট গুঁড়া করা সুরকি, বালি আর পানি। কোথাও কোথাও গুড়, ডালের পানি বা বেলের আঠাও মেশাত, জোড়া আরও শক্ত করতে। এই মশলা বাতাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নিয়ে ধীরে ধীরে আবার শক্ত পাথরের মতো হয়ে যায়। সিমেন্টের চেয়ে একটু নরম, তাই দেয়াল সামান্য নড়লে ফাটে না। এ জন্যই পানাম নগর বা পুরান ঢাকার অনেক বাড়ি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

    আরও পড়ুন:
  2. পানাম নগরের মানুষগুলা গেল কই? এত সুন্দর বাড়ি ফেলায় চইলা গেল ক্যান?ঢাকার বাইরের প্রত্নিদর্শন · পৃষ্ঠা ১৫–১৬

    পানাম নগরের বাসিন্দারা ছিলেন মূলত ধনী হিন্দু কাপড় ব্যবসায়ী। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে, আর বিশেষ করে ১৯৬৪ সালের দাঙ্গা ও ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময়, তাঁদের বেশিরভাগ ভারতে চলে যান। অনেকে প্রাণের ভয়ে প্রায় সব কিছু ফেলে রাতারাতি চলে গিয়েছিলেন। পরে বাড়িগুলো দখল হয়ে যায় বা অযত্নে পড়ে থাকে। তাই সুন্দর বাড়িগুলোর পেছনে একটা কষ্টের গল্পও আছে।

    আরও পড়ুন:
  3. জাদুঘরে কোন জিনিস রাখবে আর কোনটা রাখবে না, এইটা ঠিক করে কে?জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ · পৃষ্ঠা ১৬–১৭

    জাদুঘরে এই কাজ করেন কিউরেটর নামের বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব বা শিল্পকলায় পড়াশোনা করেছেন। তাঁরা কয়েকটা জিনিস দেখেন: জিনিসটা আসল কি না, কত পুরোনো, কতটা বিরল, এর সাথে কোনো গুরুত্বপূর্ণ গল্প জড়িয়ে আছে কি না, আর জিনিসটা ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে কি না। জিনিসটা বৈধভাবে এসেছে কি না, সেটাও দেখা হয়। বড় জাদুঘরের নিজস্ব নীতিমালা আর কমিটি থাকে। আর জাদুঘরে যা দেখেন, তা মোট সংগ্রহের ছোট একটা অংশ, বাকিটা গুদামে রাখা থাকে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৩

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

  1. ৯৩ হাজার সৈন্যরে বন্দি কইরা তারপর কী করলো? এতজনরে রাখলো কই?পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ · পৃষ্ঠা ৩৬

    আত্মসমর্পণের পর পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিদের ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে অনেকগুলো বন্দিশিবিরে রাখা হয়। ৯৩ হাজার সংখ্যার মধ্যে সৈন্য ছাড়াও পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী আর কিছু বেসামরিক মানুষও ছিল। প্রায় দুই বছর পর, ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি আর ১৯৭৩-৭৪ সালের দিল্লি চুক্তির পর ধীরে ধীরে তাঁদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে পাকিস্তানে আটকে থাকা বাঙালিরা বাংলাদেশে ফিরতে পারেন। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নটা তখন মীমাংসা হয়নি, সেটা নিয়ে বিতর্ক আজও আছে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৪

বাংলাদেশের অর্থনীতি

  1. দেশে ১৬ কোটি মানুষ, এইটা গুনলো কেমনে? সবার বাড়িতে গিয়া গিয়া?বাংলাদেশে মানব উন্নয়ন · পৃষ্ঠা ৪৩

    হ্যাঁ, প্রতিটা বাড়িতে গিয়ে, একসাথে, সারা দেশে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে কয়েক লাখ গণনাকারী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটা খানায় গিয়ে ট্যাবলেটে তথ্য তুলেছেন। সবাইকে একই 'শুমারি রাত' ধরে গোনা হয়, যাতে কেউ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গিয়ে দুবার গোনা না পড়ে। পরে স্বাধীন একটা দল কিছু এলাকায় আবার গুনে দেখে কতজন বাদ পড়েছিল, সেই হিসাব মিলিয়ে চূড়ান্ত সংখ্যা ঠিক করা হয়। তাতে এসেছে প্রায় ১৭ কোটি, বইয়ের ১৬ কোটি সংখ্যাটা আগের শুমারির।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৫

বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা

  1. ব্রিটেনের রাজার যদি কোনো ক্ষমতাই না থাকে, তাইলে রাজা রাখছে ক্যান?সরকারের শ্রেণিবিভাগ · পৃষ্ঠা ৪৯–৫০

    রাজা বা রানির হাতে সত্যিকারের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রায় নেই, দেশ চালায় নির্বাচিত সংসদ আর প্রধানমন্ত্রী। তবু রাজতন্ত্র রাখার পক্ষে মানুষ কয়েকটা যুক্তি দেয়: রাজা দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে পুরো দেশের প্রতীক হয়ে থাকেন, শত শত বছরের ঐতিহ্য টিকে থাকে, পর্যটকও আসে। আইনে সই, সংসদ খোলা, এসব আনুষ্ঠানিক কাজ রাজাই করেন। আবার অনেক ব্রিটিশ মনে করেন এটা অদরকারি খরচ, রাজতন্ত্র তুলে দেওয়া উচিত। এই তর্ক ব্রিটেনে এখনো চলছে।

  2. ভোট দিতে ১৮ বছর লাগে ক্যান? ১৭ বছরের মানুষ কি কম বুঝে?বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য · পৃষ্ঠা ৫২–৫৩

    ১৮ বছর কোনো প্রাকৃতিক সীমা না, একটা সামাজিক সিদ্ধান্ত। কোথাও না কোথাও একটা দাগ টানতেই হয়, আর অনেক দেশ ১৮ বছরকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স ধরে। একসময় অনেক দেশে ভোটের বয়স ছিল ২১। আবার অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনার মতো কিছু দেশে ১৬ বছর বয়সেই ভোট দেওয়া যায়। তাই ১৭ বছরের কেউ কম বোঝে, এমন না। প্রশ্নটা হলো সমাজ কোন বয়সকে দায়িত্ব নেওয়ার বয়স হিসেবে মেনে নেয়।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন

  1. বাংলার সবচেয়ে পুরান লেখা পাওয়া গেল নেপালে! ওইখানে গেল কেমনে?সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও বিকাশের ধারা · পৃষ্ঠা ৬৮–৭২

    ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে চর্যাপদের পুঁথি খুঁজে পান। কীভাবে সেখানে গেল, তার পরিষ্কার রেকর্ড নেই, তবে জোরালো ধারণা আছে। চর্যাপদ লিখেছিলেন বৌদ্ধ সাধকরা। ত্রয়োদশ শতকের দিকে বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন আর বৌদ্ধ বিহারগুলো ভেঙে পড়ার সময় অনেক ভিক্ষু পুঁথি নিয়ে নেপাল আর তিব্বতে চলে যান। নেপালের ঠান্ডা, শুকনো আবহাওয়া আর যত্নে রাখা রাজকীয় গ্রন্থাগার পুঁথিটাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ১০

বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন

  1. আমেরিকায় এক বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন, আমাদের ১১৭১ জন! এত ছোট দেশে এত মানুষ জমলো ক্যান?অধ্যায়ের সূচনা · পৃষ্ঠা ১০৪

    বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপের ওপর, যেখানে তিনটা বড় নদী পলি এনে খুব উর্বর মাটি বানিয়েছে। বৃষ্টি আর নদীর পানিতে বছরে দুই-তিনবার ধান হয়, এত অল্প জমিতে এত মানুষকে খাওয়াতে পারে খুব কম জায়গাই। তাই হাজার হাজার বছর ধরে এখানে মানুষ জড়ো হয়েছে। আমেরিকা আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ গুণ, তার অনেকটা মরুভূমি, পাহাড় আর বরফ-ঠান্ডা এলাকা। তা ছাড়া আমেরিকায় বড় পরিসরে বসতি শুরু হয়েছে মাত্র কয়েকশো বছর আগে।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · অষ্টম শ্রেণি · অধ্যায় ১১

বাংলাদেশে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা

  1. ঘূর্ণিঝড়ের খবর তো কয়দিন আগেই দিয়া দেয়, ভূমিকম্পের খবর আগে দিতে পারে না ক্যান?বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ · পৃষ্ঠা ১১৪–১১৫

    ঘূর্ণিঝড় কয়েক দিন ধরে সমুদ্রে ধীরে ধীরে তৈরি হয়, উপগ্রহ থেকে সেটা দেখা যায়, তার পথও হিসাব করা যায়। ভূমিকম্প হয় মাটির অনেক নিচে, যেখানে পাথরের প্লেট বছরের পর বছর চাপ জমিয়ে হঠাৎ একসময় পিছলে যায়। সেই চাপ বাইরে থেকে দেখা যায় না, আর ঠিক কোন মুহূর্তে পিছলাবে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য সংকেত বিজ্ঞানীরা এখনো পাননি। তাঁরা বলতে পারেন কোন এলাকায় আগামী কয়েক দশকে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি, কিন্তু কোন দিন, সেটা না। জাপানের মতো দেশে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া যায়, তাতেই ট্রেন থামানো যায়।

    আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৯

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ

  1. পাঁচটা দেশ একাই 'না' কইলে সব আটকায় যায়! এই পাঁচটারে কে বাছছে? এইটা কি ঠিক?জাতিসংঘের গঠন · পৃষ্ঠা ১০৭–১০৮

    কেউ ভোট দিয়ে বাছেনি। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যারা জিতেছিল, সেই পাঁচ দেশ (আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্স আর চীন) জাতিসংঘের সনদ লেখার সময় নিজেরাই নিজেদের স্থায়ী সদস্য আর ভেটো ক্ষমতা দিয়ে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, বড় শক্তিরা রাজি না থাকলে কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না, আর তারা যেন জাতিসংঘ ছেড়ে চলে না যায়। এটা ঠিক কি না, সেই প্রশ্ন আপনি একা করছেন না। বহু দেশ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের দাবি তুলছে। কিন্তু সনদ বদলাতে হলে ওই পাঁচ দেশেরই সম্মতি লাগে, তাই বদলানো খুব কঠিন।

  2. আমাদের শান্তিরক্ষীরা আফ্রিকার দেশে গিয়া কথা কয় কোন ভাষায়? ওইখানকার মানুষ কি বাংলা শিখছে?জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা · পৃষ্ঠা ১১১

    বেশিরভাগ সময় ইংরেজি বা ফরাসিতে। জাতিসংঘের মিশনে কাজের ভাষা সাধারণত এই দুটো। আফ্রিকার অনেক দেশে, যেমন কঙ্গো, মালি বা মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে, ফরাসি চলে, তাই আমাদের শান্তিরক্ষীরা মিশনে যাওয়ার আগে কিছুটা ফরাসি শিখে নেন। স্থানীয় ভাষার জন্য দোভাষী থাকে। আর মজার ঘটনা হলো, উল্টোটাও ঘটেছে! সিয়েরা লিওনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা এত জনপ্রিয় হয়েছিলেন যে সেখানকার কিছু মানুষ বাংলা শিখে ফেলেন, আর দেশটির সরকার বাংলাকে একটা সম্মানসূচক সরকারি ভাষার মর্যাদা দেয় বলে খবর বেরিয়েছিল।

ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

শ্রেণি ৯-১০ · ১২টি প্রশ্ন
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১

ইতিহাস পরিচিতি

  1. একই ঘটনা দুইজন দুইভাবে লিখলে কোনটা ঠিক ধরবো?ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা · পৃষ্ঠা ১–২

    দুজনের একজনকে চোখ বুজে বেছে নেবেন না, প্রশ্ন করবেন। কে লিখেছেন, তিনি কি নিজে দেখেছিলেন? ঘটনার কত দিন পরে লিখেছেন? কোন পক্ষের লোক ছিলেন, কাকে খুশি করতে লিখতে পারেন? দুজনের লেখায় কোন কোন বিষয়ে মিল আছে? যেখানে দুই প্রতিপক্ষই একমত, সেটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য। তারপর তৃতীয় কোনো উৎস খুঁজবেন, যেমন সরকারি নথি, চিঠি, ছবি, প্রত্নবস্তু। অনেক সময় উত্তর হয় 'দুজনেরই কিছুটা ঠিক', কারণ প্রত্যেকে ঘটনার একটা দিক দেখেছেন। ইতিহাসবিদদের কাজ এই টুকরাগুলো জোড়া দেওয়া।

    আরও পড়ুন:
  2. মাটির নিচে পাওয়া জিনিস কত বছরের পুরান, বুঝে কেমনে?ইতিহাসের উপাদান · পৃষ্ঠা ২–৪

    কয়েকটা উপায় আছে। সবচেয়ে বিখ্যাত হলো কার্বন-১৪ পদ্ধতি। জীবিত সব প্রাণী আর গাছের শরীরে একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে তেজস্ক্রিয় কার্বন-১৪ থাকে। মারা যাওয়ার পর নতুন কার্বন আর ঢোকে না, আর কার্বন-১৪ প্রতি প্রায় ৫৭৩০ বছরে অর্ধেক হয়ে যায়। হাড়, কাঠ, কয়লা বা বীজে কতটা কার্বন-১৪ বাকি, মেপে বয়স বের হয়, মোটামুটি ৫০ হাজার বছর পর্যন্ত। মাটির স্তরও সাহায্য করে: সাধারণত নিচের স্তর পুরোনো। পাত্রের নকশা, মুদ্রা, আর গাছের বর্ষবলয় গুনেও সময় মেলানো হয়।

  3. হাজার বছর মুখে মুখে চললো। মাঝখানে কেউ ভুল কইরা বদলায় ফেলে নাই?ইতিহাসের উপাদান · পৃষ্ঠা ২–৪

    বদলেছে, আবার আশ্চর্যরকম টিকেও আছে, কোন গল্প তার ওপর নির্ভর করে। লোকগল্প আর লোকগান মুখে মুখে চললে প্রতিটা গায়ক একটু নিজের মতো বদলায়, তাই একই পালার বহু আলাদা রূপ পাওয়া যায়। আবার যেখানে হুবহু মুখস্থ রাখাটাই উদ্দেশ্য ছিল, যেমন বেদ, সেখানে খুব কড়া কৌশল ছিল: শব্দগুলো সামনে-পেছনে, জোড়ায় জোড়ায় নানা ক্রমে মুখস্থ করানো হতো, যাতে একটা অক্ষর বদলালেও ধরা পড়ে। গবেষকরা দেখেছেন, হাজার হাজার মাইল দূরের দলের মুখস্থ পাঠও প্রায় হুবহু মেলে। তবু 'মাঝখানে কিছুই বদলায়নি' বলা যায় না, তাই ইতিহাসবিদরা মৌখিক উৎস খুব সাবধানে পড়েন।

  4. আজকের দিনটাও কি একদিন ইতিহাস হবে? আমাদের কথা কেউ লিখবে?ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা · পৃষ্ঠা ১–২

    হবেই, আসলে প্রতিটা দিন পরের দিন থেকেই ইতিহাস। তবে কোন কথা টিকবে, সেটা নির্ভর করে কী রেখে যাচ্ছি তার ওপর। আগে ইতিহাস লেখা হতো মূলত রাজা আর ধনীদের নিয়ে, কারণ তাঁদেরই লেখা আর নথি টিকত। সাধারণ মানুষের কথা হারিয়ে যেত। আজ আমরা এত ছবি, ভিডিও আর লেখা রাখছি যে ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদদের সমস্যা হবে উল্টো, এত তথ্য থেকে বাছাই করা। আবার ডিজিটাল জিনিস হারিয়েও যায়: পুরোনো ওয়েবসাইট বন্ধ হয়, ফোন নষ্ট হয়। আপনার নানা-দাদির মুখে শোনা গল্প লিখে রাখুন, সেটাও একদিন ইতিহাসের উৎস হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ২

বিশ্বসভ্যতা

  1. ঘণ্টায় ৬০ মিনিট মেসোপটেমিয়ার নিয়ম! তাইলে ১০০ মিনিটে ঘণ্টা হইলো না ক্যান? ৫০০০ বছর পরেও আমরা ওদের নিয়ম মানি ক্যান?মেসোপটেমীয় সভ্যতা · পৃষ্ঠা ৮–১১

    সুমেরীয় আর ব্যাবিলনীয়রা ৬০ ভিত্তিক গণনা ব্যবহার করত। ৬০ খুব সুবিধার সংখ্যা: এটাকে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১২, ১৫, ২০, ৩০ দিয়ে ভাগ করা যায়, তাই ভগ্নাংশ ছাড়াই ভাগাভাগি সহজ। ১০০-কে ভাগ করা যায় অনেক কম সংখ্যা দিয়ে, ৩ দিয়ে ভাগই হয় না। মজার ব্যাপার, দিনকে ২৪ ঘণ্টায় ভাগ করেছিল মিশরীয়রা, আর ঘণ্টাকে ৬০ মিনিটে ভাগ করার নিয়ম এসেছে অনেক পরে, গ্রিক জ্যোতির্বিদদের হাত ঘুরে। ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্স ১০ ঘণ্টার দিন আর ১০০ মিনিটের ঘণ্টা চালু করেছিল, কিন্তু মানুষ মানেনি, দুই বছরেই বাদ। সব ঘড়ি বদলানোর ঝামেলা এত বড় যে পুরোনো নিয়মই চলছে।

  2. কিউনিফর্ম লেখা এখন কেউ জানে না, তাইলে পণ্ডিতরা পড়া শিখলো কেমনে?মেসোপটেমীয় সভ্যতা · পৃষ্ঠা ৮–১১

    অনেকটা ধাঁধার মতো, একাধিক ভাষায় লেখা একটা শিলালিপির সাহায্যে। ইরানের বেহিস্তুন পাহাড়ের গায়ে পারস্যের রাজা দারিয়ুস একই কথা তিনটা ভাষায় কিউনিফর্মে খোদাই করিয়েছিলেন। হেনরি রলিনসন নামের এক ব্রিটিশ অফিসার ১৮৩০-৪০-এর দশকে খাড়া পাহাড়ে দড়ি বেয়ে ঝুলে সেটা কপি করেন। প্রাচীন ফারসি অংশটা সবচেয়ে সহজ ছিল, কারণ ভাষাটা আধুনিক ফারসির আত্মীয়, আর রাজাদের নাম গ্রিক বইয়ে জানা ছিল। সেটা দিয়ে চাবি খুলে বাকি দুই ভাষা পড়া হয়। ১৮৫৭ সালে চারজন পণ্ডিতকে আলাদা আলাদা করে একই অজানা লিপি অনুবাদ করতে দেওয়া হয়, চারজনের অনুবাদ প্রায় মিলে যায়, তাতে প্রমাণ হলো পড়াটা ঠিক।

  3. মাটির ফলক তো ভাইঙা যায়, পাঁচ হাজার বছর টিকলো কেমনে?মেসোপটেমীয় সভ্যতা · পৃষ্ঠা ৮–১১

    কাঁচা মাটির ফলক সত্যিই ভাঙে আর গলে যায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, অনেক ফলককে আগুনই বাঁচিয়েছে! শত্রুরা শহর পুড়িয়ে দিলে গ্রন্থাগারের মাটির ফলকগুলো পুড়ে ইটের মতো শক্ত হয়ে যেত। আসিরিয়ার রাজা আশুরবানিপালের নিনেভে শহরের বিখ্যাত গ্রন্থাগার এভাবেই পুড়ে হাজার হাজার ফলক রয়ে গেছে। তা ছাড়া মেসোপটেমিয়ার আবহাওয়া খুব শুকনো, আর ফলকগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে বাতাস-পানি থেকে সুরক্ষিত ছিল। প্রায় পাঁচ লাখের মতো ফলক পাওয়া গেছে, তার অনেকগুলো এখনো কেউ পড়েও দেখেনি।

  4. মাটির নিচে শহর আছে কি না, খোঁড়ার আগে বুঝে কেমনে কোথায় খুঁড়তে হবে?সিন্ধুসভ্যতা · পৃষ্ঠা ১১–১৫

    অনেক সূত্র আছে। মরুভূমি বা সমভূমিতে একটা অস্বাভাবিক উঁচু ঢিবি প্রায়ই একটা পুরোনো বসতির চিহ্ন। মাটির ওপরে ছড়ানো ভাঙা মাটির পাত্র বা ইটের টুকরা দেখে অনুমান করা যায় নিচে কী আছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে ফসলের রং দেখে দেয়াল বোঝা যায়: মাটির নিচে দেয়াল থাকলে ওপরের ফসল কম পানি পায়, একটু হলুদ হয়, সোজা রেখা আঁকে। এখন আছে মাটি-ভেদী রাডার আর চুম্বকীয় জরিপ যন্ত্র, যা না খুঁড়েই নিচের দেয়াল-চুলার ছবি দেয়। লাইডার নামের লেজার জরিপ ঘন জঙ্গলের নিচেও হারানো শহর খুঁজে দিয়েছে। আর পুরোনো বই ও লোককথাও পথ দেখায়।

  5. ৫০০০ বছর আগে ল্যাম্পপোস্ট! কারেন্ট তো ছিল না, বাতি জ্বালাইতো কী দিয়া?সিন্ধুসভ্যতা · পৃষ্ঠা ১১–১৫

    বইয়ে যাকে 'ল্যাম্পপোস্ট' বলা হয়, সেটা আসলে প্রত্নতত্ত্ববিদদের একটা ব্যাখ্যা, নিশ্চিত প্রমাণ না। সেই আমলে আলো জ্বালানোর উপায় ছিল তেলের প্রদীপ আর মশাল। সিন্ধু সভ্যতায় মাটির ছোট ছোট প্রদীপ পাওয়া গেছে, সম্ভবত তাতে সরিষা বা তিলের মতো কোনো বীজের তেল কিংবা পশুর চর্বি জ্বালানো হতো, সলতে হিসেবে তুলা বা কাপড়। রাস্তার পাশে খুঁটি বা কুলুঙ্গিতে এমন প্রদীপ রাখা হলে সেটাই রাস্তার বাতি। তবে সিন্ধুর শহরগুলো সত্যিই রাতে আলোকিত থাকত কি না, সে বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদরা খুব নিশ্চিত নন।

  6. পাঁচ হাজার বছর আগের মমি এখনো পচে নাই! কী মাখাইলে লাশ এত বছর থাকে?মিশরীয় সভ্যতা · পৃষ্ঠা ১৬–১৮

    মূল রহস্য হলো পানি সরিয়ে ফেলা, কারণ পচন ঘটায় ব্যাকটেরিয়া, আর তাদের পানি লাগে। মিশরীয়রা প্রথমে মস্তিষ্ক আর পেটের ভেতরের অঙ্গ বের করে নিত, কারণ সেখান থেকেই পচন সবচেয়ে আগে শুরু হয়। তারপর দেহটাকে 'ন্যাট্রন' নামের এক ধরনের প্রাকৃতিক লবণে প্রায় ৪০ দিন ঢেকে রাখত, যা সব পানি শুষে নিত। শুকনো দেহে তেল, গাছের রজন আর মোম মাখিয়ে লিনেন কাপড়ের লম্বা ফালি দিয়ে পেঁচানো হতো। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০ দিন লাগত। মিশরের শুকনো মরুভূমির আবহাওয়াও অনেক সাহায্য করেছে। শুনলে অবাক হবেন, আচার বা শুঁটকিতেও একই বুদ্ধি কাজ করে: লবণ আর শুকানো।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৫

প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস

  1. শামুকের খোল দিয়া কেনাকাটা! কড়ি তো সমুদ্রে কুড়াইলেই পাওয়া যায়, তাইলে সবাই বড়লোক হইয়া যাইতো না?প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা · পৃষ্ঠা ৫১–৫২

    দারুণ প্রশ্ন! যেকোনো সৈকতে কড়ি মেলে না। মুদ্রা হিসেবে যে কড়ি চলত, সেটা একটা বিশেষ প্রজাতির শামুক, যা বিপুল পরিমাণে পাওয়া যেত মূলত মালদ্বীপে, হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে জাহাজে করে বাংলায় আনতে হতো, তাতে খরচ আর সময় দুটোই লাগত। তাই কড়ির জোগান সীমিত ছিল। আর কড়ির দাম ছিল খুব কম: একটা রুপার টাকায় কয়েক হাজার কড়ি লাগত। তাই কড়ি দিয়ে বড়লোক হওয়া যেত না, এটা ছিল খুচরা পয়সার মতো। শেষে আফ্রিকায় ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা জাহাজভর্তি কড়ি নিয়ে গেলে সেখানে কড়ির দাম পড়ে গিয়েছিল, ঠিক যেটা আপনি অনুমান করছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস

  1. মাত্র ১৭-১৮ জন ঘোড়সওয়ার দিয়া একটা রাজধানী দখল! এইটা কি আসলেই সম্ভব, নাকি গল্প বাড়ায়া কইছে?বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা · পৃষ্ঠা ৫৮–৬০

    গল্পটা বলেছেন ইতিহাসবিদ মিনহাজ-ই-সিরাজ, ঘটনার প্রায় ৪০ বছর পরে, আর তিনি বখতিয়ারের দলের পক্ষের লোক ছিলেন। তাই কিছুটা বাড়িয়ে বলার সম্ভাবনা ইতিহাসবিদরাও মানেন। তবে পুরো গল্পটা অসম্ভবও না। তাঁর লেখা অনুযায়ী ১৭-১৮ জন ছিল শুধু সামনের দল, পেছনে বড় বাহিনী আসছিল। রাজা লক্ষ্মণসেন তখন বয়স্ক, আর অনেকটা অপ্রস্তুত ছিলেন। হঠাৎ আক্রমণে রাজা পালিয়ে গেলে রক্ষীরা আর লড়েনি। ইতিহাসে আরও এমন উদাহরণ আছে, যেখানে আকস্মিক চমক আর নেতার পালিয়ে যাওয়া অল্প লোককে অনেক বড় জয় এনে দিয়েছে। এই প্রশ্নটা করার জন্যই ইতিহাস পড়া!

ভূগোল ও পরিবেশ

শ্রেণি ৯-১০ · ১২টি প্রশ্ন
ভূগোল ও পরিবেশ · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ২

মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী

  1. এই বইয়ে বলে মহাবিশ্বের শুরু-শেষ নাই, কিন্তু ক্লাস সিক্সে পড়ছি ১৩৭০ কোটি বছর আগে শুরু। কোনটা ঠিক?মহাকাশ, নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডলী · পৃষ্ঠা ৮–১০

    ক্লাস সিক্সেরটা আজকের বিজ্ঞানের সাথে মেলে। বেশিরভাগ বিজ্ঞানী মনে করেন, আমাদের দেখা মহাবিশ্ব প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং থেকে প্রসারিত হতে শুরু করেছে। এর পক্ষে জোরালো প্রমাণ আছে: দূরের ছায়াপথগুলো আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, আর পুরো আকাশ জুড়ে বিগ ব্যাংয়ের রেখে যাওয়া একটা ক্ষীণ তাপ, মহাজাগতিক পটভূমি বিকিরণ, মাপা গেছে। 'শুরু-শেষ নেই' ধারণাটা আগের একটা তত্ত্ব, যার নাম স্থিতিশীল অবস্থা তত্ত্ব, ১৯৬০-এর দশকে সেই বিকিরণ পাওয়ার পর থেকে প্রায় বাতিল। তবে বিগ ব্যাংয়ের আগে কী ছিল, বা আদৌ 'আগে' বলে কিছু ছিল কি না, সেটা এখনো কেউ জানে না।

  2. তারার গায়ে তো থার্মোমিটার লাগানো যায় না, তাইলে ৬০০০ ডিগ্রি মাপলো কেমনে?মহাকাশ, নক্ষত্র ও নক্ষত্রমণ্ডলী · পৃষ্ঠা ৮–১০

    তারার রং দেখে! চুলায় লোহা গরম করলে প্রথমে লাল, তারপর কমলা, তারপর সাদা হয়। যত গরম, আলো তত নীলের দিকে সরে। কোনো জিনিস কোন তাপমাত্রায় কোন রঙের আলো সবচেয়ে বেশি দেয়, সেটা পদার্থবিজ্ঞানের একটা সূত্রে বাঁধা (ভিনের সূত্র)। সূর্যের আলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশটা মেপে তাপমাত্রা আসে প্রায় ৫৮০০ কেলভিন, মানে প্রায় ৬০০০ ডিগ্রি। তাই লাল তারা তুলনামূলক ঠান্ডা, নীল তারা সবচেয়ে গরম। তারার আলো প্রিজমে ভেঙে কোন রেখা দেখা যায়, সেটা দিয়েও তাপমাত্রা মেলানো হয়।

  3. শীতকালে ছায়াপথ দেখা যায় বলে, তাইলে ঢাকা থেকে কোনোদিন দেখি না ক্যান?ছায়াপথ, উল্কা ও ধূমকেতু · পৃষ্ঠা ১১–১২

    আলোর দূষণের কারণে। ছায়াপথের আলো খুব ক্ষীণ, অসংখ্য দূরের তারার মিলিত আলো। শহরের রাস্তার বাতি, বিলবোর্ড আর বাড়ির আলো আকাশে ছড়িয়ে আকাশটাকে এত উজ্জ্বল করে রাখে যে ওই ক্ষীণ আলো ডুবে যায়। শীতের ধোঁয়াশা আর ধুলাও বাধা দেয়। একটা জরিপে দেখা গেছে, পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ, আর উত্তর আমেরিকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ, নিজের বাসা থেকে কখনো ছায়াপথ দেখতে পান না। সুযোগ পেলে অমাবস্যার রাতে শহর থেকে দূরে, যেমন সুন্দরবনের কাছে, বান্দরবানে বা চরে চলে যান। চোখ অন্ধকারে ২০ মিনিট সইয়ে নিলে আকাশজোড়া মেঘের মতো দাগটা দেখবেন।

  4. ২৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে যে দেখছে আর ১৯৮৬ তে যে দেখছে, একই ধূমকেতু সেইটা বুঝলো কেমনে?ছায়াপথ, উল্কা ও ধূমকেতু · পৃষ্ঠা ১১–১২

    এর পেছনে আছেন এডমন্ড হ্যালি। ১৭০৫ সালে তিনি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র দিয়ে আগের কয়েকটা ধূমকেতুর পথ হিসাব করলেন, দেখলেন ১৫৩১, ১৬০৭ আর ১৬৮২ সালের ধূমকেতুর পথ প্রায় একই, আর এরা প্রায় ৭৬ বছর পরপর আসছে। তিনি বললেন এরা একই ধূমকেতু, আবার আসবে ১৭৫৮ সালে। তিনি তখন বেঁচে ছিলেন না, কিন্তু ধূমকেতুটা ঠিকই ফিরে এলো, তাই তার নাম হ্যালির ধূমকেতু। পরে ইতিহাসবিদরা পুরোনো চীনা আর ব্যাবিলনীয় রেকর্ডে প্রতি ৭৬ বছরের হিসাব পেছন দিকে মিলিয়ে দেখলেন, খ্রিস্টপূর্ব ২৪০ সালের চীনা বিবরণটাও এর সাথে মেলে।

    আরও পড়ুন:
  5. সব গ্রহ এক দিকে ঘোরে, শুক্র খালি উল্টা দিকে ঘোরে ক্যান?গ্রহ, উপগ্রহ ও সৌরজগৎ · পৃষ্ঠা ১২–১৫

    সঠিক উত্তর কেউ জানে না, তবে কয়েকটা জোরালো ধারণা আছে। সব গ্রহ একই দিকে ঘোরে কারণ এরা সবাই একটা ঘূর্ণায়মান গ্যাস-ধুলার চাকতি থেকে জন্মেছে। শুক্রের উল্টা ঘোরার একটা ব্যাখ্যা হলো, জন্মের সময় কোনো বিশাল বস্তুর সাথে ধাক্কা খেয়ে এটা উল্টে গেছে। আরেকটা ব্যাখ্যা হলো, শুক্রের খুব ঘন বায়ুমণ্ডল আর সূর্যের টান কোটি কোটি বছর ধরে ধীরে ধীরে এর ঘূর্ণন কমিয়ে উল্টো করে দিয়েছে। আর শুক্র এত ধীরে ঘোরে যে এর এক দিন এর এক বছরের চেয়েও লম্বা! ইউরেনাসও কাত হয়ে প্রায় শুয়ে শুয়ে ঘোরে।

    আরও পড়ুন:
  6. গ্যাগারিনের আগে কেউ মহাকাশে যায় নাই, তাইলে তার আগে মানুষ জানতো কেমনে যে পৃথিবী গোল?পৃথিবীর আকার-আকৃতি · পৃষ্ঠা ১৫

    আড়াই হাজার বছর আগেই জানত! গ্রিকরা খেয়াল করেছিল, চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, সেটা সবসময় গোল। জাহাজ দূরে চলে গেলে প্রথমে নিচের অংশ, তারপর মাস্তুল হারিয়ে যায়, যেন একটা ঢালের ওপারে নামছে। উত্তরে বা দক্ষিণে ভ্রমণ করলে আকাশে নতুন তারা দেখা যায়। প্রায় ২৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এরাতোস্থেনিস দুই শহরে একই দিনে ছায়ার দৈর্ঘ্যের পার্থক্য মেপে পৃথিবীর পরিধি হিসাব করেছিলেন, বেশ কাছাকাছিই এসেছিল। ১৫২২ সালে ম্যাগেলানের জাহাজ পৃথিবী ঘুরে ফিরে আসে।

  7. ০° দ্রাঘিমা গ্রিনিচ থেকে ক্যান? ঢাকা থেকে শুরু হইলো না ক্যান?অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা · পৃষ্ঠা ১৬–১৭

    শূন্য দ্রাঘিমা কোথাও না কোথাও ধরতেই হতো, প্রকৃতিতে কোনো আসল শূন্য নেই। ১৮০০ শতকে অনেক দেশ নিজের নিজের শূন্য ব্যবহার করত, প্যারিস, কাদিজ, এমনকি উজ্জয়িনীর মতো জায়গা থেকেও। তাতে নাবিকদের খুব গোলমাল হতো। ১৮৮৪ সালে ওয়াশিংটনে ২৫টা দেশের একটা সম্মেলনে গ্রিনিচকে বেছে নেওয়া হলো। কারণ তখন পৃথিবীর বেশিরভাগ জাহাজ ব্রিটিশ নাবিক-মানচিত্র ব্যবহার করত, যেগুলো আগে থেকেই গ্রিনিচ ধরে বানানো। অর্থাৎ যেটা সবচেয়ে বেশি চালু, সেটাকেই মেনে নেওয়া সহজ ছিল। ফ্রান্স ভোট দেয়নি, আরও কয়েক দশক প্যারিসই ব্যবহার করেছে।

ভূগোল ও পরিবেশ · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৪

পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক গঠন

  1. হিমালয়ের মাথায় নাকি সমুদ্রের মাছ-শামুকের ফসিল পাওয়া যায়! সমুদ্রের জিনিস পাহাড়ের চূড়ায় উঠলো কেমনে?শিলা ও খনিজ · পৃষ্ঠা ৫০–৫১

    পাহাড়টা নিজেই সমুদ্রের তলা থেকে উঠে এসেছে! ভারত আর এশিয়া ধাক্কা খাওয়ার আগে মাঝখানে টেথিস নামে একটা সমুদ্র ছিল। কোটি কোটি বছর সেখানে শামুক, ঝিনুক আর সামুদ্রিক প্রাণী মরে তলায় জমে চুনাপাথর হয়েছিল। ভারতীয় প্লেট উত্তরে চাপতে থাকায় সেই সমুদ্রতলের পাথর ভাঁজ হয়ে, ঠেলা খেয়ে, কয়েক কিলোমিটার উপরে উঠে যায়। এ জন্যই এভারেস্টের একদম চূড়ার পাথরে সামুদ্রিক জীবের ফসিল আছে। নেপালে কালো গোল যে 'শালগ্রাম' পাথর পাওয়া যায়, তার অনেকগুলোর ভেতরেও অ্যামোনাইট নামের প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর ফসিল।

  2. আমাদের দেশটাই নাকি নদীর আনা পলি দিয়া বানানো। তাইলে বাংলাদেশ বানাইতে কত বছর লাগছে? আগে এইখানে কী ছিল?নদীর কাজ ও ভূমিরূপ · পৃষ্ঠা ৬০–৬২

    লাখ লাখ বছর, আর কাজটা এখনো চলছে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বদ্বীপ গড়া শুরু হয়েছে হিমালয় উঁচু হতে শুরু করার পর থেকেই, কয়েক কোটি বছর ধরে। তবে আজকের বাংলাদেশের নিচু সমতলভূমির বেশিরভাগটা খুব নতুন, গত ১০ হাজার বছরের মধ্যে জমেছে। শেষ বরফযুগে সমুদ্র এখনকার চেয়ে প্রায় ১২০ মিটার নিচে ছিল, উপকূল ছিল অনেক দক্ষিণে। বরফ গলে সমুদ্র ওঠার পর নদীগুলো বিপুল পলি এনে আবার জমি গড়তে থাকে। আজও গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বছরে শত কোটি টনের মতো পলি আনে, আর মেঘনার মোহনায় নতুন চর জাগছে।

ভূগোল ও পরিবেশ · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৫

বায়ুমণ্ডল

  1. উপরে উঠলে তো সূর্যের কাছে যাই, তাইলে পাহাড়ের চূড়া বেশি গরম না হইয়া ঠান্ডা ক্যান?বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস · পৃষ্ঠা ৭১–৭৩

    কারণ বাতাস সূর্যের আলো থেকে সরাসরি খুব কম গরম হয়। সূর্যের আলো বাতাস ভেদ করে এসে প্রথমে মাটি গরম করে, তারপর গরম মাটি তার ঠিক ওপরের বাতাসকে গরম করে। তাই নিচের বাতাস বেশি গরম। আর পাহাড়ে উঠলে সূর্যের যতটা কাছে যান, সেটা সূর্যের দূরত্বের তুলনায় কিছুই না, প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র কয়েক কিলোমিটার। উপরে বাতাস পাতলা, বাতাস ওপরে উঠলে ছড়িয়ে গিয়ে ঠান্ডা হয়, আর পাতলা বাতাস তাপ ধরে রাখতে পারে না। গড়ে প্রতি এক কিলোমিটার উপরে উঠলে প্রায় ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা হয়।

    আরও পড়ুন:
ভূগোল ও পরিবেশ · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১০

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিবরণ

  1. ২৫ হাজার বছর আগে মধুপুর-বরেন্দ্র যখন তৈরি হইতেছিল, তখন বাকি বাংলাদেশ কই ছিল? মানুষ ছিল?বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি · পৃষ্ঠা ১৫০–১৫৩

    সেই সময়টা শেষ বরফযুগের কাছাকাছি। পৃথিবীর অনেক পানি বরফ হয়ে জমে ছিল, তাই সমুদ্র এখনকার চেয়ে অনেক নিচে, আর বঙ্গোপসাগরের উপকূল ছিল আজকের চেয়ে অনেক দক্ষিণে। বাকি বাংলাদেশের অনেকটাই তখন নদীর প্রবাহে ভরা নিচু জায়গা ছিল, নদীগুলো গভীর খাত কেটে সমুদ্রে যেত। বরফ গলে সমুদ্র উঠলে সেই খাত আর নিচু জায়গা পলিতে ভরে আজকের সমতলভূমি হয়েছে। মানুষ তখন দক্ষিণ এশিয়ায় ছিল। বাংলাদেশের উঁচু লাল মাটির এলাকায় পাওয়া কিছু পাথরের হাতিয়ার দেখায় যে এই অঞ্চলেও প্রাচীন মানুষ ঘুরত, তবে তার সঠিক বয়স নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

ভূগোল ও পরিবেশ · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১১

বাংলাদেশের সম্পদ ও শিল্প

  1. মাটির নিচে এত গ্যাস আসলো কোথা থেকা? আর না খুঁইড়া কেমনে বুঝে নিচে গ্যাস আছে?খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা · পৃষ্ঠা ১৭১–১৭২

    এই গ্যাস লাখ লাখ বছর আগের জীবের দেহ থেকে। নদী যখন সমুদ্রে পলি ফেলে, তার সাথে আসে গাছপালা আর অণুজীবের দেহাবশেষ। সেগুলো অক্সিজেন ছাড়া পলির নিচে চাপা পড়ে, আরও পলি জমে, গভীরে নেমে যায়। ভেতরের তাপ আর চাপে ধীরে ধীরে সেগুলো তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপ নেয়। বাংলাদেশ বিশাল বদ্বীপ বলে এখানে এমন পলি অনেক পুরু। না খুঁড়ে খুঁজতে বিজ্ঞানীরা মাটিতে ছোট বিস্ফোরণ বা কম্পন তৈরি করে শব্দতরঙ্গ পাঠান। ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তর থেকে প্রতিধ্বনি ফিরে এসে মাটির নিচের একটা ছবি দেয়, যেখানে গ্যাস আটকে থাকার মতো গম্বুজ খোঁজা হয়। তবু শেষ পর্যন্ত খুঁড়েই নিশ্চিত হতে হয়, অনেক কূপ শুকনোও হয়।

পৌরনীতি ও নাগরিকতা

শ্রেণি ৯-১০ · ১টি প্রশ্ন
পৌরনীতি ও নাগরিকতা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ২

নাগরিক ও নাগরিকতা

  1. কোনো বাচ্চা যদি উড়োজাহাজে, সমুদ্রের উপর আকাশে জন্মায়, তাইলে সে কোন দেশের নাগরিক হয়?নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি · পৃষ্ঠা ১৩

    এটা নির্ভর করে কোন দেশের আইন কী বলে তার ওপর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশু মা-বাবার নাগরিকত্ব পায়, বাংলাদেশসহ অনেক দেশ এই নিয়ম মানে। এ ছাড়া কিছু দেশ, যেমন আমেরিকা, তাদের মাটিতে বা আকাশসীমায় জন্মালে নাগরিকত্ব দেয়। আন্তর্জাতিক নিয়মে উড়োজাহাজ যে দেশে নিবন্ধিত, সেটাকে ওই দেশের মাটির মতো ধরা যায়, তবে সব দেশ এর জন্য নাগরিকত্ব দেয় না। সমুদ্রের ওপর কারো আকাশসীমায় না থাকলে বেশিরভাগ সময় শিশুটি শুধু মা-বাবার দেশের নাগরিক হয়। শিশুটি যেন কোনোভাবেই দেশহীন না থাকে, তার জন্য একটা আন্তর্জাতিক চুক্তিও আছে।

অর্থনীতি

শ্রেণি ৯-১০ · ১টি প্রশ্ন
অর্থনীতি · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৭

অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা

  1. টাকা তো আসলে একটা কাগজ। এই কাগজের দাম আসে কোথা থেকা? সবাই মাইনা নেয় ক্যান?কেন্দ্রীয় ব্যাংক · পৃষ্ঠা ৯০–৯১

    কাগজটার দাম আসে বিশ্বাস আর আইন থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপায়, সরকার আইন করে বলে দেয় এটা দিয়ে দেনা শোধ করা যাবে, আর সরকার নিজেও এই টাকায় কর নেয়। ফলে সবাই জানে, আজ যে নোটটা নিলাম, কাল সেটা অন্য কেউ নেবে। আপনি নেন কারণ দোকানদার নেবেন, দোকানদার নেন কারণ পাইকার নেবেন। এই বিশ্বাস ভেঙে গেলে, যেমন সরকার অনেক বেশি টাকা ছাপালে, মানুষ টাকা রাখতে চায় না, জিনিস কিনে ফেলে, দাম হু হু করে বাড়ে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বড় একটা কাজ হলো টাকার এই বিশ্বাসটা রক্ষা করা।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

শ্রেণি ৯-১০ · ২টি প্রশ্ন
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও আমাদের বাংলাদেশ

  1. কম্পিউটার তো তখনো বানানোই হয় নাই, তাইলে আডা লাভলেস প্রোগ্রাম লিখল কেমনে? চালায়া দেখল কই?তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব · পৃষ্ঠা ৩–৫

    কাগজে-কলমে! চার্লস ব্যাবেজ 'অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন' নামে একটা যান্ত্রিক কম্পিউটারের নকশা করেছিলেন, যা বাষ্পশক্তিতে চলবে আর ফুটো করা কার্ডে নির্দেশ পড়বে। কিন্তু টাকা আর প্রযুক্তির অভাবে যন্ত্রটা কখনো পুরো বানানো হয়নি। আডা লাভলেস ১৮৪৩ সালে এই ইঞ্জিনের ওপর একটা প্রবন্ধ অনুবাদ করে তার সাথে বিশাল নোট জুড়ে দেন। তার একটায় ধাপে ধাপে দেখান, যন্ত্রটা কীভাবে 'বার্নুলি সংখ্যা' নামের একটা কঠিন সংখ্যার সারি হিসাব করবে। এটাকেই প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রাম বলা হয়। তিনি নিজে কখনো চালিয়ে দেখতে পারেননি। অনেক পরে গবেষকরা তাঁর প্রোগ্রাম আধুনিক কম্পিউটারে চালিয়ে দেখেছেন, একটা ছোট ভুল ছাড়া ঠিকঠাক কাজ করে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৬

প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান

  1. প্রোগ্রাম চালাইতে কম্পাইলার লাগে, কম্পাইলারও তো একটা প্রোগ্রাম! তাইলে প্রথম কম্পাইলারটা বানাইল কেমনে?কম্পাইলার ও ইন্টারপ্রেটার · পৃষ্ঠা ১১১–১১২

    হাতে লিখে! একদম প্রথম দিকের কম্পিউটারে মানুষ সরাসরি যন্ত্রের ভাষায়, মানে ০ আর ১-এর সারিতে, প্রোগ্রাম লিখত, সুইচ টিপে বা কার্ডে ফুটো করে। তারপর একটা খুব ছোট, সহজ অনুবাদক প্রোগ্রাম হাতেই যন্ত্রের ভাষায় লেখা হলো। সেই অনুবাদক দিয়ে একটু উন্নত ভাষায় একটা বড় অনুবাদক লেখা হলো, তারপর সেটা দিয়ে আরও বড়টা। ধাপে ধাপে এভাবে ওপরে ওঠাকে বলে 'বুটস্ট্র্যাপিং', মানে নিজের জুতার ফিতা ধরে নিজেকে টেনে তোলা। গ্রেস হপারের মতো প্রোগ্রামাররা ১৯৫০-এর দশকে প্রথম দিকের কম্পাইলার বানান। আজ অনেক কম্পাইলার নিজের ভাষাতেই লেখা, যেমন সি-এর কম্পাইলার সি-তে।

কৃষিশিক্ষা

শ্রেণি ৭ · ১টি প্রশ্ন
কৃষিশিক্ষা · সপ্তম শ্রেণি · অধ্যায় ১

কৃষি এবং আমাদের সংস্কৃতি

  1. কৃষি নাকি প্রথম মেয়েরা শুরু করছিল! হাজার হাজার বছর আগের কথা, তাইলে এইটা জানল কেমনে?পরিবার গঠনে কৃষি · পৃষ্ঠা ২–৩

    সত্যি বলতে, এটা কেউ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। এটা একটা জোরালো অনুমান। আজও যেসব জনগোষ্ঠী শিকার আর ফলমূল কুড়িয়ে চলে, তাদের মধ্যে সাধারণত মেয়েরাই গাছপালা, বীজ আর কন্দ সংগ্রহ করেন। তাই কোন বীজ কোথায় পড়লে চারা গজায়, এই জ্ঞান তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি থাকার কথা। সেখান থেকেই ধারণা করা হয় যে চাষাবাদের শুরুটা মেয়েদের হাতে। প্রত্নতত্ত্ব দেখাতে পারে প্রায় ১০-১২ হাজার বছর আগে মানুষ চাষ শুরু করেছিল, কিন্তু প্রথম বীজটা কে পুঁতেছিল, তা মাটির নিচে লেখা থাকে না।

    আরও পড়ুন:

শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

শ্রেণি ৯-১০ · ১টি প্রশ্ন
শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ৯

অ্যাথলেটিকস ও সাঁতার

  1. ম্যারাথন দৌড় ৪২ কিলোমিটারের একটু বেশি। এমন অদ্ভুত দূরত্ব ক্যান? পুরা ৪০ বা ৫০ না ক্যান?অ্যাথলেটিকসের ইভেন্টসমূহ · পৃষ্ঠা ১১৬

    ইতিহাসের একটা দুর্ঘটনা! প্রথম অলিম্পিক ম্যারাথনগুলো প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মতো ছিল, প্রতিবার একটু আলাদা। ১৯০৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে দৌড় শুরু হয় উইন্ডসর দুর্গ থেকে, আর শেষ হয় স্টেডিয়ামে রাজপরিবারের বসার জায়গার সামনে। এই পথ মাপতে গিয়ে দাঁড়াল ২৬ মাইল ৩৮৫ গজ, মানে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার। ১৯২১ সালে এটাকেই ম্যারাথনের অফিশিয়াল দূরত্ব হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। আর ম্যারাথনের নাম এসেছে গ্রিসের ম্যারাথন শহর থেকে, যেখান থেকে এক বার্তাবাহক জয়ের খবর নিয়ে এথেন্সে দৌড়ে গিয়েছিলেন বলে গল্প প্রচলিত।

    আরও পড়ুন:

চারু ও কারুকলা

শ্রেণি ৯-১০ · ১টি প্রশ্ন
চারু ও কারুকলা · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ১

শিল্পকলা

  1. আদিম মানুষের তো সারাদিন শিকার আর খাবার জোগাড় করতেই যাইতো। তাও ওরা ছবি আঁকতো ক্যান? ছবি দিয়া ওদের কী লাভ হইতো?শিল্পকলা · পৃষ্ঠা ২–৩

    এর উত্তর কেউ নিশ্চিত জানে না, তবে কয়েকটা ভালো ধারণা আছে। হয়তো ছবি এঁকে তারা শিকারের সাফল্য চাইত, এক ধরনের জাদু বা প্রার্থনার মতো। হয়তো ছবি দিয়ে ছোটদের শেখাত কোন প্রাণী কেমন, কীভাবে শিকার করতে হয়। আবার হয়তো গল্প বলা আর দলকে একসাথে রাখার উপায় ছিল এটা। আর একটা কথা মনে রাখার মতো: শিকারি মানুষের জীবন আমরা যতটা ব্যস্ত ভাবি, ততটা নয়। খাবার জোগাড়ের পরও তাদের হাতে সময় থাকত। ছবি আঁকা, গান, গল্প, এগুলো মানুষ সম্ভবত সব সময়ই করেছে।

    আরও পড়ুন:

সংগীত

শ্রেণি ৯-১০ · ১টি প্রশ্ন
সংগীত · নবম-দশম শ্রেণি · অধ্যায় ২

ইতিহাস

  1. পাঁচ হাজার বছর আগে তো রেকর্ড করার কিছু ছিল না। তাইলে তখনকার গান শুনতে কেমন ছিল, এইটা কি কেউ জানে?সংগীতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস · পৃষ্ঠা ১৩

    হুবহু কেউ জানে না, তবে কিছুটা আন্দাজ করা যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা হাজার বছরের পুরোনো বাদ্যযন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন, যেমন জার্মানির গুহায় পাওয়া পাখির হাড়ের বাঁশি (প্রায় ৪০ হাজার বছর পুরোনো) আর মেসোপটেমিয়ার উর-এর বীণা। সেগুলোর আদলে যন্ত্র বানিয়ে বাজিয়ে দেখা যায় কোন কোন সুর বের হয়। সবচেয়ে মজার হলো, সিরিয়ার উগারিট শহরে প্রায় ৩৪০০ বছর আগের একটা মাটির ফলকে কিউনিফর্মে লেখা একটা গান পাওয়া গেছে, সাথে সুরের নির্দেশনাও! গবেষকরা সেটা পড়ে বাজিয়েছেন, ইউটিউবে শোনা যায়। তবে ফলকটা কীভাবে পড়তে হবে তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ আছে, তাই একেকজনের সংস্করণ একেক রকম শোনায়।

আপনার মাথায়ও কি প্রশ্ন আছে?

বই পড়তে গিয়ে এমন কোনো প্রশ্ন মাথায় এসেছে, যার উত্তর বইয়ে নাই? লিখে পাঠান। পড়ে দেখে প্রশ্নটা এই খাতায় যোগ করা হবে। নাম বা ফোন নম্বর লাগবে না।